জিয়ার কবরের নকশা ভাঙচুরের অভিযোগ

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৫, ২২:৪৯
 
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে স্থাপনায় ভাংচুর চালানো হয়েছে। জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশের গোল চত্বরে মারবেল পাথর দিয়ে ডিজাইন করা ১২টি প্লেট ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এরমধ্যে ৪টি প্লেট দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে এবং বাকিগুলো ভেঙ্গে ফেলে গেছে।
 
মাজার  প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মিজানুর রহমান জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি ভোরে ঝাড়ু দিতে এসে এই দৃশ্য দেখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খবর দেন।
 
 তিনি সকাল ৬টায় এসে দেখেন প্লেটগুলো ভাঙ্গা। রাতে কে বা কারা এগুলো ভেঙ্গেছে তিনি তা বলতে পারছেন না। তিনি বলেন, আমি ঝাড়ু দিতে এসে দেখি, কবরের চারপাশের ভাঙা মার্বেল পাথর পড়ে আছে। শক্ত কিছু দিয়ে সেগুলো ভাঙা হয়েছে বলে আমার ধারণা।
 
এদিকে, উদ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে ২০ জন আনসার থাকলেও  বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাদেরকে ওই এলাকায় দেখা যায়নি। পুলিশ বলছে, বুধবার রাতে কোনো এক সময় ‘অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা’ এ ঘটনা ঘটায়। 
 
মাজার প্রাঙ্গণের তত্ত্বাবধায়কসহ ছয়জনকে আটক করা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার আফরুজুল হক টুটুল জানান।
 
তিনি বলেন, সকালে সেখানে কয়েকটি টাইলস খুলে ফেলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানতে আমরা আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি।
 
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গনেশ গোপাল বিশ্বাস ঘটনাস্থলে আসেন বেলা সোয়া ১২টার দিকে। এরপর তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে খবর দেন।
 
বেলা ১টার আগে গৃহায়ন ও গৃণপূর্ত বিভাগের একজন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হন। তার নির্দেশে সংস্থার দুই কর্মচারী আঙ্গুর ও তুহিন ভাঙা মার্বেল পাথরগুলো জায়গামতো বসানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
 
জড়িতদের বিচার দাবি
জিয়াউর রহমানের ভাঙ্গা মাজার পরিদর্শন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে.অব. মাহবুবুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ। এ সময় সদস্য লে. জে.অব. মাহবুবুর রহমান সমাধিস্থল ভাংচুরের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
 
এ সময় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. ইব্রাহীম বলেন, বিগত তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের কোনো সম্পর্ক নেই। অবিলম্বে তিনি জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। 
 
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ প্রচার সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত প্রমুখও মাজারে যান।