‘বৈষম্য নিরোধ আইন’ পাস হবে ডিসেম্বরে : আইনমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১৮:০৮



আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, অনগ্রসর নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় ‘বৈষম্য নিরোধ আইন-২০১৪’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই পাশ করা হবে।

আইনমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে একথা বলেন।

তিনি বলেন, এটি একটি ভিন্নধর্মী আইন। আমাদের দেশে আগের যেসব আইন আছে তাতে এই আইনের সাথে কিছু সাংঘর্ষিক বিধি আছে। এই আইনটা করার সাথে সাথে সেই বিধিগুলো পরিবর্তন না করলে আইনটা পূর্ণতা লাভ করবে না। আইন মন্ত্রণালয় এখন সেই বিষয় নিয়েই কাজ করছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন, আইন কমিশনের সদস্য ড. মো. শাহ আলম, মানবাধিকার কমিশনের সদস্য  সেলিনা হোসেন, এডভোকেট তারানা হালিম এমপি, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন যৌথভাবে “বৈষম্য নিরোধ আইন: মানবাধিকার সুরক্ষায় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ” শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় দলিত, হিজড়া, যৌনকর্মীসহ দেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বিভিন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও সদস্যরা অংশ নেন।

সভায় দেশের অনগ্রসর নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা, সমান সুযোগ ও পূর্ণ অংশীদারিত্ব নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ দেন।

কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, দেশের মানুষের মানবিক মর্যাদার জন্য এটি খুবই কার্যকর হবে যদি এটির যথাযথ প্রয়োগ ঘটানো যায়। মানবিক রাষ্ট্রগঠন কঠিন কাজ নয়, যদি রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি পর্যায়ে আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকে। তিনি অনগ্রসর নাগরিকদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষায় এই আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগে রাষ্ট্রের আন্তরিক পদক্ষেপ কামনা করেন।
এডভোকেট তারানা হালিম বলেন, রাষ্ট্রের সব কাজে সমান সুযোগ পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু তাদের সেই অধিকার থেকে মানুষ তাদের বঞ্চিত করেছে। বঞ্চিত করেছে সেবা প্রদানকারী সংস্থা, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থা। তাই এই অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে আইন প্রণয়ন জরুরি।

তিনি এই আইনে দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি, হিজড়া, যৌনকর্মী, ধর্মীয় সম্প্রদায়সমূহকে সম্মানজনকভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই আইন প্রণয়ণে সতর্ক হতে হবে যাতে এটি আরেকটি বৈষম্যমূলক আইন না হয়ে ওঠে। এই আইনে কোন আপোষের সুযোগ দেয়া যাবেনা। এটি যাদের জন্য প্রণয়ন করা হচ্ছে তাদের সবার অধিকার এতে সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভূক্ত হতে হবে।