সরগরম মাগুরার হাতপাখা পল্লী

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ১৬:৪৯

গ্রীষ্ম আমাদের মাঝে প্রায় সমাগত। চৈত্রের তীব্র রোদে শীতল করতে অনন্য তাল পাতার তৈরি এই হাতপাখা। গ্রাম-গঞ্জের পাশাপাশি শহরেও রয়েছে হাতপাখার বিপুল চাহিদা। তালের পাতার হাতপাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাগুরার হাতপাখা শিল্পীরা। এখানকার তৈরি হাতপাখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রতিদিনের কাজের পাশাপাশি এ থেকে মৌসুমি আয় করছে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। 

জানা গেছে, মাগুরার শিবরামপুর, নিজনান্দুয়ালী, সংকজখালী, শক্রুজিৎপুর, আড়পাড়া, বিনোদপুর, পারিয়াট, ধনেশ্বরগাতিসহ বিভিন্ন গ্রামে তালের হাতপাখা তৈরি করা হয়। এই গ্রাম গুলোতে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। 

হাতপাখার কারিগর আব্দুল করিম জানান, প্রথমে তাল পাতা কেটে রোদে শুকানো হয়। সুতা ও বাঁশের শলাকা দিয়ে সেলাই করে তৈরি করা হয় হাতপাখা। তারপর রং করা হয় পাখার সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য। একজন কারিগর প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০/৬০টি পাখা তৈরি করতে পারেন। প্রতিটি পাখা তৈরিতে খরচ পড়ে গড়ে ১০ টাকা। পাইকারি বিক্রি হয় ১৫ টাকা থেকে ১৮টাকা। সেই পাখা গুলো খুচরা বিক্রি হয় ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়। 

জানা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসে পাখা কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে মাগুরা হাতপাখার মোকামে পরিণত হয়েছে। ফাল্গুন থেকে ভাদ্র মাস পাখা তৈরির মৌসুম। পাখা শিল্পীদের বেশিরভাগ মহিলা। এ কাজ করে তারা দৈনিক তিন থেকে চারশ টাকা আয় করে থাকেন।

আরো পড়ুন: নিক জোনাসদের মিউজিক ভিডিওতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

হাতপাখার কারিগর মোসলেম উদ্দিন জানান, বর্তমানে তাল পাতার সংকট রয়েছে। প্রতিটি তাল পাতা ৫ টাকায় কিনতে হয়। বিক্রি করার পর পাখা প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা লাভ থাকে। সংসারের কাজের পাশাপাশি অনেকেই এই কাজ করে আসছেন।  

ইত্তেফাক/অনি