তিন সিটি নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর কোন অনিয়ম তদন্তের সুযোগ নেই নির্বাচন কমিশন বা সরকারের। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোন অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে।
তবে ইতিমধ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্টদূত, ইউরোপীয়ন ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া সিটি নির্বাচনের অনিয়নের তদন্তের আহবান জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় গনভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, সিটি নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির যে অভিযোগ এসেছে, তার তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত দাবি করেছিলেন, নির্বাচনে তারা অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য প্রমান পেয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অনিয়ম তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। এছাড়া পৃথকভাবে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বিবৃতি দিয়ে অনিয়ম তদন্তের আহবান জানান।
অভিযোগ তদন্ত প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ইত্তেফাককে বলেন, নির্বাচন হওয়ার পর কোন অভিযোগের বিষয়ে কমিশনের কিছুই করার থাকে না। তবে উচ্চ আদালত কোন প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকলেও তাদের গেজেট স্থগিত করা যায়।
এছাড়া রিটার্নিং অফিসাররা যেভাবে প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করবে তা শুধু সরকারি গেজেট প্রকাশ করার দায়িত্ব ইসির। তবে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সুযোগ আছে। এখানে গেজেট হওয়ার পর ইসি বা অন্য কারোর তদন্ত করার এখতিয়ার নেই।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনী দরখাস্ত বিচারের জন্য কমিশন, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে।
কোড অফ সিভিল প্রসিডিউর, ১৯০৮ এর অধীন কোন মোকদ্দমার বিচারকারি দেওয়ানি আদালতের যাবতীয় ক্ষমতা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচনী আপীল ট্রাইব্যুনালে থাকবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৮০ ও ৪৮২ এর অধীন এখতিয়ার সম্পন্ন একটি আদালত বলে গণ্য হবে। এই ট্রাইব্যুনাল নির্বাচিত প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল বা নির্বাচনটি সামগ্রীকভাবে বাতিল করতে পারে। এই ট্রাইব্যুনালে কোন দরখাস্ত আসলে তা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নিয়ম রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. শাহজাহান ইত্তেফাক বলেন, প্রতি সিটিতে একজন যুগ্ম জেলা জজের নেতৃত্বে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে করোর কোন অভিযোড় থাকলে জেলা জজের কাছে আপীল করতে পারবেন।
