ভূমিকম্প সহনশীল ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৫, ২৩:৩০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ ও বিল্ডিং কোড সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। তাই সবার ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ করতে হবে। সবাই যেন বিধিমালা মেনে ভূমিকম্প সহনশীল ভবন তৈরি করে তা নিশ্চিত করতে যথোপযুক্ত তদারকির জন্য তিনি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান ।

 
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে টেকসই উন্নয়নের জন্য ‘টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভিইটি)’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) এবং কলম্বো প্লান স্টাফ কলেজ (সিপিএসসি), ম্যানিলা যৌথভাবে তিনদিনের এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
 
শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ভূমিকম্পে বাংলাদেশও কেঁপে উঠেছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নেপালে কিছু ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে- যা পর্যাপ্ত নয়। তাদের জন্য আরো ত্রাণসামগ্রী পাঠাতে হবে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা যাতে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে ত্রাণসামগ্রী পরিবহন করতে পারে সে জন্য ইতিমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানন্দর, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর, সিলেট বিমানবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে ত্রাণসামগ্রী পরিবহনে সহায়তা করতে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় একটি উন্নত ও প্রগতিশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠপর্যায়ে নির্মাণ কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা মাঠপর্যায়ে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে তদারকিতে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রায় ৮৫ শতাংশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আপনাদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।
 
এসব কাজের গুণগত মান বজায় রাখা এবং
 
রাষ্ট্রের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নির্ভর করে আপনাদের দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততার ওপর। তিনি বলেন, সঠিক মান নিয়ন্ত্রণে কোনভাবেই আপস করা যাবে না। উন্নয়ন কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হলে তা কেবল জাতীয় ক্ষতি নয়, মানবিক বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে। এছাড়া সম্পদের টেকসই ও সর্বোচ্চ ব্যবহার যাতে নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে নজর দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
 
শেখ হাসিনা বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট বা স্থাপনা নির্মাণের ফলে  দেশে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ হেক্টর চাষযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে। এ জন্য এখনই শহর নগরের পাশাপাশি গ্রামগুলোকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে জরুরি পরিকল্পনা নিতে হবে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, দক্ষ মানবসম্পদের চেয়ে কোনো সম্পদই বড় নয়। আমরা এ জন্য জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছি। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগে এ কাজ করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে দারিদ্র্যের হার আরো ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সরকারের যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রতিক আন্দোলনে নৃশংসতার শিকার ও নেপালের ভূমিকম্পে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলনের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান আইডিইবি’র সভাপতি এ কে এম এ হামিদ। কো-চেয়ারম্যান ছিলেন সিপিএসসি’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ নাইন ইয়াকুব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য-সচিব আইডিইবি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুর রহমান।