‘ম্যাডাম বললেন উইথড্রো করার দিকে চলে যান’

আপডেট : ০১ মে ২০১৫, ০১:৩১

রাজধানীসহ দেশের প্রধান তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট বর্জন করার পর থেকে এখন পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ফোনালাপের দুটি অডিও ক্লিপ ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে ভোট বয়কট ছিল বিএনপির পূর্বপরিকল্পিত।

 
সূত্রগুলো বলছে, প্রথম অডিও ক্লিপটি গত ২৫ এপ্রিলের। ওই দিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বিএনপির অপর এক নেতার (পরিচয়  জানা যায়নি)  সঙ্গে নির্বাচন বর্জনের ব্যাপারে আলোচনা করেন। ওই ফোনালাপে তারা নির্বাচনের একদিন আগে, নাকি নির্বাচনের দিন  ভোট বর্জনের  ঘোষণা দিবেন তা নিয়ে আলোচনা করেন।
 
ফোনালাপে ওই নেতা নজরুল ইসলাম খানকে বলেন, ‘সার্টেইনলি, রাজনৈতিক তথ্য ঠিক আছে স্যার, মাঠ জরিপে আমার কাছে আপডেট যে তথ্য রয়েছে, তাতে নির্বাচনের দিন ১০-১১ টার দিকে যদি আমাদের নির্বাচন বর্জন করতে হয়, সেক্ষেত্রে একদিন আগেই উইথড্র করলে আওয়ামী লীগে আওয়ামী লীগে মাঠে মারামারি করে বিশৃঙ্খলা করবে। আমাদেরকে সুযোগ গ্রহণ করতে হবে, এভাবেই ম্যাডামকে পরামর্শ দিয়ে আমি মনে করি যুগোপযোগী ডিসিশন নেয়া যাবে।’ অপর প্রান্ত থেকে নজরুল ইসলাম খান বলেন,  ‘আচ্ছা। মানে কতটুকু নিশ্চিত আছেন, এইটা হবে আর কি?’ তখন ওই নেতা বলেন, ‘একশ পার্সেন্ট, কোটি পার্সেন্ট স্যার। একদম ফিল্ডের রুট লেভেলের পার্টির নিউজ স্যার এইটা।’  জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আচ্ছা, দেখা যাক।’
 

অপরদিকে দ্বিতীয় অডিও ক্লিপ সূত্রে জানা যায়, ভোটের দিন বিএনপির চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ফোনালাপের মাধ্যমে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের কাছে ভোট বর্জনের নির্দেশনাটি পৌঁছে দেন। সেখানে শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘স্যার, কার সাথে কথা বললেন?’ মওদুদ আহমেদ : ‘আমি তাবিথের সাথে কথা বললাম। ওর আব্বা বললো উইথড্র করে ফেলেন। ওর আব্বার কথায় উইথড্র করবো না। তবে ওর আব্বার কথা অ্যাকসেপ্ট করছি..।’ শিমুল বিশ্বাস : ‘....আব্বাস ভাইও উইথড্র করার কথা বলতেছে।’ মওদুদ আহমেদ : ‘সবাই বলেছে। তারপরও একটা কথা থেকে যায়, তাবিথ তো ক্যান্ডিডেড। তাবিথেরও একই মত। কিন্তু ও বলছে আমাকে একটু সময় দেন, আমি কল ব্যাক করছি আপনাকে। তো যাই হোক..।’ শিমুল বিশ্বাস : ‘আমার মনে হয় স্যার আর সময় দিয়েন না স্যার। ম্যাডামকে বলেছি, ম্যাডাম বললেন- উইথড্র করার দিকে চলে যান। ... উইথড্র করার ঘোষণা দিয়ে দেন স্যার।’ মওদুদ আহমেদ : ‘আর কোনো, অন্য কোনো..।’ শিমুল বিশ্বাস : ‘আর কোনো প্রোগ্রামের এখন কোনো দরকার নেই স্যার।’ মওদুদ আহমেদ : ‘ওকে। তাহলে ম্যাডাম হ্যাজ অ্যাগ্রিড।’ শিমুল বিশ্বাস : ‘রাইট স্যার।’ মওদুদ আহমেদ : ‘সো উই আর গোয়িং এহেড।’ শিমুল বিশ্বাস : ‘জি।’ এরপর ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত জানাতে কোথায় সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।