৩ সিটি নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের আগে প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের যে সুযোগ ছিল, তা হাতছাড়া করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করে ইসি সচিবালয়। ফলে প্রার্থীরা শত অভিযোগ করলেও এখন তার কোনো গুরুত্ব নেই। এরই মধ্যে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করে শতাধিক প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করেছে। কিন্তু সেসব অভিযোগ আমলে নেয়নি ইসি। প্রার্থীদের পাশপাশি জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা-অস্ট্রেলিয়া নির্বাচনে অনিয়মের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল।
এর আগে নির্বাচনে আচরণ-বিধি ভঙ্গের কারণে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদে যশোর থেকে নির্বাচিত দুইজন এমপির গেজেট আটকিয়ে অনিয়ম তদন্ত করেছিল ইসি। সব সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশের প্রায় দুইমাস পর তাদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ আসলেও তা গ্রহন করা হয়নি। এমনকি ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন না দেখে গেজেট প্রকাশ করে ইসি।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী—তিন সিটি নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের পর কোনো অনিয়ম তদন্তের সুযোগ নেই নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে। এর আগে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত দাবি করেছিলেন—নির্বাচনে তারা অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অনিয়ম তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া, পৃথকভাবে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বিবৃতি দিয়ে অনিয়ম তদন্তের আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনী দরখাস্ত বিচারের জন্য কমিশন, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। কোড অব সিভিল প্রসিডিউর, ১৯০৮-এর অধীন কোনো মোকদ্দমার বিচারকারী দেওয়ানি আদালতের যাবতীয় ক্ষমতা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে থাকবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৮০ এবং ৪৮২-এর অধীন এখতিয়ার সম্পন্ন একটি আদালত বলে গণ্য হবে। এ ট্রাইব্যুনাল নির্বাচিত প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল বা নির্বাচনটি সামগ্রিকভাবে বাতিল করতে পারে। এই ট্রাইব্যুনালে কোনো দরখাস্ত এলে তা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নিয়ম রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মো. শাহজাহান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রতি সিটিতে একজন যুগ্ম জেলা জজের নেতৃত্বে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ থাকলে জেলা জজের কাছে আপিল করতে পারবেন।
