প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের হাতে। বাংলাদেশেকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে তরুণরাই। তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং দেশকে নিয়ে তাদের স্বপ্নই ভবিষ্যতের জয়বাংলা গড়বার মূল ভিত্তি।’ সরকারি মন্ত্রণালয়ে ইন্টার্নশিপ চালুসহ তরুণদের দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে জয় বলেন, ‘সরকার এখন ফোকাস করেছে তরুণদের ওপর। কারণ, তরুণরাই ভবিষ্যত্ বাংলাদেশ গড়বে।’ জয় বলেন, ‘আজকে তরুণরা সচেতন হচ্ছে, তারাই বাংলাদেশের দায়িত্ব নেবে, সেটিই হবে বাংলাদেশের জন্য বিজয়। আমি বিশ্বাস করি—তরুণরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।’
শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউটে ‘ইয়াং বাংলা’ আয়োজিত ‘জয়বাংলা তরুণ পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। গোটা দেশ থেকে সফল তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের সাফল্যের কাহিনি ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের একটি প্ল্যাটফরমে নিয়ে আসার জন্য সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
আগামী দিনের নেতৃত্বের জন্য নিজেদের তৈরি করতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জয় বলেন, ‘সরকারের পরিকল্পনা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ আর ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে বাংলাদেশকে পরিণত করা। এটা তরুণ নেতৃত্বের পক্ষেই করা সম্ভব।’
জয় বলেন, ‘যখন দেখি—আমাদের তরুণরা শুধু নিজেদের চাকরি, ব্যবসার কথা চিন্তা করেন না, তখন আমার কাছে খুব ভালো লাগে। তারা দেশের জন্য চিন্তা করেন, দেশের মানুষের জন্য চিন্তা করেন। তারা দরিদ্রদের কথা, প্রতিবন্ধীদের কথা চিন্তা করেন—সমাজের পিছিয়েপড়া মানুষদের নিয়ে ভাবেন। আমার বিশ্বাস—তরুণরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
সজীব ওয়াজেদ জয় আরো বলেন, ‘জয়বাংলা আওয়ামী লীগের স্লোগান নয়, এটা স্বাধীনতার স্লোগান, বাংলাদেশের স্লোগান। এই জয়বাংলা স্লোগান ধারণ করে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে তরুণরা।’
১৯৭৫-পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে জয় বলেন, ‘একটা সময় আমাদের তরুণরা জয়বাংলা বলতে লজ্জা পেত। কারণ, তাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল।’
জয় বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে জয়বাংলা স্লোগান ছিল একটা শপথ—বিজয় ছিনিয়ে আনার শপথ। এখনো আমাদের প্রত্যেকের মনে একটি করে জয়বাংলার মতো শপথ রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে জয়বাংলা হচ্ছে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করা। গত ৫ থেকে ৬ বছরে আমরা অত্যন্ত সফলভাবে এই ভিশন বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছি। আমাদের প্রত্যেক তরুণের মনে একটি করে জয়বাংলা রয়েছে, যা তারা জয় করতে চায়। এই তরুণদের দেখে আমার গর্ব হয়—গ্রামে গ্রামে যারা ছড়িয়ে রয়েছে, যারা মানুষের উপকার করে চলেছেন নিভৃতে। এই সব উদ্যমী তরুণকে সহযোগিতা করতে পারলে, তাদের অনুপ্রাণিত করতে পারলেই স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।’
অনুষ্ঠানে উদ্ভাবন, গবেষণা, উদ্যোক্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারা দেশ থেকে বাছাই করা সেরা ৩০ জন তরুণ-তরুণীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাদের প্রত্যেককে ল্যাপটপ, ক্রেস্ট ও সনদ দেয়া হয়।
সারা দেশ থেকে এক হাজার ৪৬৯ জন তরুণ-তরুণীর মধ্যে থেকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ৬০ জন তরুণ-তরুণীকে বাছাই করে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন। পুরস্কার পাওয়া ৩০ জন বাদে অন্য ৩০ জনের প্রত্যেককে হ্যান্ডসেট দেয়া হয়।
দেশের তরুণ সমাজকে সমন্বিত করে জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করতে, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতায় অনুপ্রাণিত করতে ১০ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওর্য়াড’ দিল ‘ইয়াং বাংলা’। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) তরুণদের জন্য ‘ইয়াং বাংলা’ প্লাটফর্মটি তৈরি করে।
ব্যবসা, অর্থনৈতিক উদ্যোগে সাফল্য, রাজনীতি, আইনি এবং সরকার-সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব ও সাফল্য, সাংস্কৃতিক সাফল্য, নৈতিক এবং পরিবেশ উন্নয়নে নেতৃত্ব, শিশু কল্যাণ, বিশ্বশান্তি এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অবদান, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, সাফল্য, উদ্ভাবনা ও গবেষণা—এই ১০টি বিষয়ে সারা দেশ থেকে সেরা তরুণদের বাছাই করে ‘জয় বাংলা’ পুরস্কার দেয়া হয়।
ইয়াং বাংলার আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাঈম রাজ্জাক বলেন, ‘তরুণদের দক্ষতাকে বেগবান করতে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতেই আমাদের এ উদ্যোগ। বাংলাদেশের প্রতি চারজনে একজন তরুণ। এই তরুণদের অফুরান শক্তিকে দেশ গড়ে তুলবার একটি বিন্দুতে মিলিত করতে আমাদের সকল প্রয়াস।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন—বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, তথ্যপ্রযুক্তি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, সংসদ সদস্য তারানা হালিম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব নাছিমা বেগম, সিআরআইর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের মোহাম্মদ এ আরাফাত প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণরা তাদের সফলতা ও ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। প্রতিবন্ধী আফজাল হোসেন তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বলেন—ভাই ভাই ভ্যারাইটি স্টোর গড়ে তুলেছেন তিনি। দোকান চালানোর পাশাপাশি কারমাইকেল কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনায় অনার্স পাস করেছন। মাস্টার্সে ভর্তি হবেন।
দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে লেজার শো, ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে সিআরআই তার বিভিন্ন কার্যক্রমসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরছে। একই সঙ্গে সারা দেশের তরুণদের সঙ্গে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
