সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় বিভিন্ন মহল থেকে নির্বাচনী অনিয়মের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছিল তা তদন্তের ক্ষমতা এখন আর নেই সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে। কারণ আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত অনিয়ম তদন্তের সুযোগ ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে কমিশন। ফলে জাতিসংঘ-যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল নির্বাচনকালে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের যে আহ্বান জানিয়েছিল তা গুরুত্ব হারিয়েছে। কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও আর নিতে পারবে না সরকার বা কমিশন।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালার পঞ্চম অধ্যায়ে নির্বাচন পূর্ব ও নির্বাচনকালীন অনিয়ম তদন্তের ক্ষমতা আছে নির্বাচন কমিশনের। আর গেজেট প্রকাশ হয়ে গেলে আইন অনুযায়ী তদন্তের দায়িত্ব ট্রাইব্যুনালের। কোন অনিয়ম তদন্ত হবে কি না, ট্রাইব্যুনালের বিচার্য বিষয় সেটা।
উল্লেখ্য, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে যশোর থেকে নির্বাচিত দুজন এমপির গেজেট আটকে অনিয়ম তদন্ত করেছিল ইসি। পরে কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যান তারা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরে তাদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য তাদেরকে সতর্ক করা হয়। এ কারণে ওই দুজন এমপি সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিতে পারেননি। এর আগে আবু হেনার নৃেত্বতাধীন কমিশন টাঙ্গাইল-(সখিপুর) আসনের অনিয়ম তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিটি নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ হওয়ায় প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তের যে সুযোগ ছিল তা কমিশনের হাতছাড়া হয়ে গেছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে শতাধিক প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করেছে। কিন্তু সেগুলো আমলে নেয়নি ইসি। ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন না দেখেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এখন কোন অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে।
সিটি নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত দাবি করেছিলেন, তারা অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এছাড়া পৃথকভাবে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বৃিবতি দিয়ে একই আহ্বান জানিয়েছিল।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনী দরখাস্ত বিচারের জন্য কমিশন সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপণ দ্বারা এ সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। কোড অফ সিভিল প্রসিডিউর, ১৯০৮ এর অধীন কোন মোকদ্দমার বিচারকারী দেওয়ানী আদালতের যাবতীয় ক্ষমতা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচনী আপীল ট্রাইব্যুনালে থাকবে। ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৪৮০ ও ৪৮২ এর অধীন এখতিয়ার সম্পন্ন একটি আদালত বলে গণ্য হবে। এই ট্রাইব্যুনাল নির্বাচিত প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল বা নির্বাচনটি সামগ্রীকভাবে বাতিল করতে পারে। এখানে কোন দরখাস্ত এলে তা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নিয়ম রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. শাহজাহান ইত্তেফাককে বলেন, প্রতি সিটিতে একজন যুগ্ম জেলা জজের নেতৃত্বে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কারো অভিযোগ থাকলে আপীল করতে পারবেন।
