নানা কর্মসূচিতে মহান মে দিবস পালন

আপডেট : ০৩ মে ২০১৫, ০১:৩৬

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুক্রবার সারাদেশে মহান মে দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, বর্ণাঢ্য র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। ১৮৮৬ সালে ন্যায্য শ্রম ঘণ্টা নির্ধারণের দাবিতে আমেরিকার শিকাগো শহরে প্রাণ দেয়া শ্রমিকদের স্মরণ করে শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ-রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, কর্মপরিবেশের নিরাপত্তাসহ আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী শ্রমিকদের সংঘবদ্ধ হওয়া ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার দাবি করে। একই সাথে তাজরিন ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরিবারবর্গকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানায় তারা। শুক্রবার আশুলিয়ায় শ্রমিক সমাবেশ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি মোশরেফা মিশুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা বলেন, ৮ ঘণ্টা কাজে যে মজুরি দেয়া হয় তাতে শ্রমিকদের চলে   না। তাই শ্রমিকরা ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হয়। সমাবেশে শ্রমিকদের অধিকার জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। রাজধানীতে সমাবেশ ও র্যালি করেছে শ্রমিক ঐক্য। এক সমাবেশে শ্রমিক ঐক্যের সমন্বয়কারী আনোয়ারা বেগম অবিলম্বে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আহ্বান জানান। জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ জাসদ কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে র্যালি করেছে জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করাসহ অবাধ ট্রেড ইউনিয়নের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। মিছিল-সমাবেশ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। এর উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান বলেছেন, পেশী শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে কব্জা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখনো অধিকাংশ শ্রমিক মে দিবসের ছুটি পায় না। শ্রম আইন অনুসারে সুযোগ সুবিধা ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা এবং অবাধে ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারছে না। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মিছিল ও সমাবেশ করে রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি ইয়াসমিন বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় কাজের জায়গা হলো গার্মেন্টস। গত ৩০ বছর দেশের এ শিল্পখাতটি অনেকদূর এগুলেও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বাড়েনি। মালিকরা সম্পদের পাহাড় গড়লেও শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি পায় না। তাদের নেই স্বাস্থ্য বিমা, পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ড। তোপখানা রোডে এক সমাবেশে বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল, স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান, মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) সভাপতি রবিউল ইসলাম নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।