বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর নামাজে জানাজা শেষে সোমবার আজিমপুর কবরস্থানে বাবার কবরে তাকে দাফন করা হয়েছে। দ্বিতীয় নামাজে জানাজা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পিন্টুর মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই খালেদা জিয়া তার গুলশানের বাসায় ফিরে যান। এ সময় মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল, মহিলাদল, ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পিন্টুর কফিনে ফুল দেওয়া হয়।
সোমবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে কার্যালয়ের সামনে জানাজা পরিচালনা করেন ওলামা দলের নেতা মাওলানা আব্দুল মালিক। সেখানে জানাজার পর সাবেক পিন্টুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার হাজারীবাগের বাসায়। পরে লেদার টেকনোলজি কলেজ মাঠে বিকালে আরেক দফা জানাজার পর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পিলখানা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পিন্টু রবিবার রাজশাহী কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সোমবার ভোর ৬টায় রাজশাহী থেকে নগরীর হাজারীবাগ ২৭ নম্বর মনেশ্বর রোডের নিজ বাসায় পিন্টুর মরদেহ আনা হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে উপস্থিতিতে পিন্টুর মরদেহে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ধর্ম বিষয় সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক শাহাজাদা মিয়া, নির্বাহী সদস্য রফিক শিকদারসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
শ্রদ্ধা জানানোর আগে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মরহুম নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু একজন উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল নেতা ছিলেন। তার সাংগঠিক দক্ষতা ছিলো, তিনি আলোচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার হঠাৎ মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা নাসির উদ্দিন আহমেদের শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর মৃত্যুকে রহস্যময় বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে রাজশাহী নেয়া হয়েছিল। তার রহস্যময় মৃত্যু হয়েছে। নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু এতো তাড়াতাড়ি এভাবে চলে যাবেন, তা আমরা আশা করিনি। আমরা শেকাহত, মর্মাহত।
পিন্টুর বাসায় শোকাহতদের ভিড়
নাসির উদ্দিন আহামেদ পিন্টুকে এক নজর দেখতে সোমবার সকাল থেকেই তার বাসভবনে ভিড় জমান দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। সকাল থেকে অনেকেই এসেছেন তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাঁদলেনও কেউ কেউ। পুরো বাড়িটাই যেন ডুবে আছে শোকের ছায়ায়।
পিন্টুর বাসায় মির্জা আব্বাসের তেহারি
নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বাসায় বড় দুই পাতিল তেহারি পাঠানো হয় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসা থেকে।
দুপুর পৌনে ৩টায় মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের পক্ষ থেকে এ তেহারি নিয়ে হাজারীবাগের মনেশ্বর রোডে পিন্টুর বাসায় আসেন মির্জা আব্বাসের দেহরক্ষী আলম।
