আল-কায়দার নামে ভিডিও বার্তা পাকিস্তান থেকে আপলোড করা

আপডেট : ০৪ মে ২০১৫, ২৩:৫৬
 
লেখক ও ব্লগার ড. অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বাংলায় ভিডিও বার্তা প্রচার করেছে আল-কায়েদা। রবিবার বিকালে আর্বি, উর্দু ও ইংরেজির সাথে ভিডিও বার্তার বাংলা অনুবাদ জুড়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পেয়েছে যে এই ভিডিও বার্তা পাকিস্তান থেকে আপলোড করা হয়েছে।
 
বাংলা অনুবাদ প্রচার করার পেছনে বাংলাদেশের কেউ জড়িত থাকতে পারে। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে.কর্নেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম সাধারণত আল-কায়দার অনুসারী। কিন্তু আল-কায়দা বাংলাদেশের আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে কিনা-এমন কোন তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনই অভিজিৎকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের আড়াল করতে কিংবা কেউ এটি থেকে সুবিধা নিতেও আল-কায়দার নামে ভিডিও বার্তা প্রচার করা হতে পারে।
 
তিনি আরো জানান, সারা বিশ্বে আল-কায়দার নির্দেশে কোন ব্লগার খুনের ঘটনা ঘটেনি। ব্লগারের বিষয়টি বাংলাদেশে সম্প্রতি হলেও বিশ্বে অনেক পুরনো। ভারত, পাকিস্তান এমনকি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কোন দেশে আল-কায়দার হাতে কোন ব্লগার খুনের ঘটনা ঘটেনি। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ড. অভিজিৎ রায়ের মতো একজন ব্লগারকে আল-কায়দা কেনই বা খুন করতে যাবে।
 
এদিকে, র্যাবের একটি তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রবিবার বিকালে অভিজিৎ রায় হত্যার দায় স্বীকার করে আল-কায়েদার নামে বাংলায় ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। এর আগের আরবি, উর্দু ও ইংরেজিতে প্রচারিত ঐ ভিডিও বার্তার সঙ্গে বাংলা অনুবাদ জুড়িয়ে দেয়া হয়।
 
বাংলায় প্রচারিত ভিডিও বার্তাটি পরীক্ষা করে র্যাবের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ভিডিও বার্তাটি আপলোড হয়েছে পাকিস্তান থেকে।  
 
অন্যদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমই ব্লগার ড. অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন পাঁচজনকে তারা চিহ্নিত করেছেন। এরা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানা যাবে।
 
তিনি জানান আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা কেউ কাউকে চেনে না। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ নেই মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের। তিনি আরো বলেন, তাদের কাছে প্রমাণ আছে আনসারুল্লাহ জঙ্গিরাই ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারসহ ব্লগার বাবু ও বুয়েট শিক্ষার্থী দ্বীপসহ আরো কিছু হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।
 
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে আল-কায়েদার  ‘ক্লোজেস্ট রিলেটিভ’ উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক আছে এমন কোনো তথ্য নেই। তবে আনসারুল্লাহ বাংলাটিম আল-কায়েদার অনুসারী। দীর্ঘদিন ধরে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হতে চেষ্টা করছে সংগঠনটি। তবে তারা যুক্ত হতে পেরেছে এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। আল-কায়েদার প্রচারিত ভিডিওটি সত্যি কিনা এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করে দেখছি।
 
শনিবার জঙ্গি সংগঠনটি পরিচালিত একটি ‘জিহাদিস্ট ফোরামে’ এ হত্যার দায় স্বীকার করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওটিতে আল-কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার প্রধান অসীম উমর দাবি করেন, তার নির্দেশে সংগঠনের কর্মীরা অভিজিৎ রায়কে হত্যা করেছে। অনলাইনে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এমন একটি গোয়েন্দা সংস্থা (সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট এন্টিটিস-সাইট) ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।