পাকিস্তানকে জয়হীন রাখতে চান মুশফিকরা

আপডেট : ০৫ মে ২০১৫, ২২:১৮
 
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম জানিয়েছেন পাকিস্তানকে পুরো সিরিজেই জয়হীন রাখতে চায় তার দল। তবে তাই বলে বাংলাদেশ বুধবার থেকে মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া শেষ টেস্টে রক্ষণাত্মক খেলবে, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। এই টেস্ট জিতে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সাফল্যের পুনরাবৃত্তির দিকেই নজর তাদের।
 
টেস্টে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানকে হারাতে বোলিংকেই মূল চাবিকাঠি মানছেন দলের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। প্রথম টেস্টের আঙ্গুলের চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা মুশফিক জানালেন, ঢাকা টেস্টে মাঠে নামার সময় আগের টেস্ট তো বটেই পুরো সিরিজে ভাল ফলের অনুপ্রেরণা সঙ্গী হবে তাদের।
মঙ্গলবার মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষটি শুরুর প্রাক্কালে মুশফিক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে জবাব দেন নানা প্রশ্নের।
 
কেমন ফল আশা করেন?
প্রত্যেকটা টুর্নামেন্টেই আমরা ভাল খেলেছি। আশাতো থাকবেই, এটা এই সিরিজের ফাইনাল ম্যাচ, যেন খুব ভালভাবে পাঁচটি দিন ভালভাবে শেষ করতে পারি। ইনশাল্লাহ ভালভাবে শেষ করতে পারলে পরবর্তী যে সিরিজটা আছে তার জন্য খুব ভাল একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে এটা। এর জন্য যা যা করা দরকার, আমরা অবশ্যই চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।
 
বোলিং শক্তি প্রসঙ্গে বলুন।
এটা হচ্ছে ফাইনাল ম্যাচ। ওরা অবশ্যই চেষ্টা করবে। আমরাও তাই করবো। আমরা চেষ্টা করবো কিভাবে ২০টি উইকেট নেওয়া যায়। খুলনা টেস্টে উইকেটটা ব্যাটিং সহায়ক হলেও আমাদের যারা বোলার ছিল তারা অনেক চেষ্টা করেছে। আমরা যদি মনে করি আমাদের এই উইকেটে আরও একটি অতিরিক্ত বোলার লাগবে অথবা একজন সিমার কিংবা স্পিনার; সেটা আমরা নির্বাচন করবো। সেভাবে কম্বিনেশন করবো; আমাদের ২০টা উইকেট নিতে হবে।
বোলিং বিভাগে আমাদের কাছে দুটি অপশনই আছে। আবুল হাসান রাজু ও শাহাদাত হোসেন। আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আশাকরি উইকেটে বোলারদের জন্য হেল্প থাকবে। দুজন পেসারও খেলাতে পারি আবার তিনজন পেসারও খেলতে পারে। যদি দুজন পেসার খেলে তাহলে বাড়তি একজন স্পিনার খেলানো হতে পারে। কালকে সিদ্ধান্ত নেব; যেহেতু উইকেটটা এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
 
খুলনার চেয়ে মিরপুরের উইকেটে রেজাল্ট হওয়ার সুযোগ কতখানি?
এখানে আমরা যে কয়টা টেস্ট খেলেছি সবগুলোর রেজাল্ট হয়েছে। যদি না আবহাওয়া কোন সমস্যা করেছে। সেজন্যই আমি বলি এই উইকেট বোলার ও ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক থাকে। যে কোন দলের স্পিনাররা এখান থেকে সুবিধা আদায় করে নিতে পারে। খুলনায় আমরা ভাল খেলেছি; কিন্তু এখানে আমাদের খেলাটা খুব চ্যালেঞ্জিং হবে। ওরাও আমাদের ২০ উইকেট তুলে নেওয়ার জন্য সব রকম পদক্ষেপ নেবে। ওরা চেষ্টা করবে যেভাবেই হোক রেজাল্ট যেন ওদের পক্ষে যায়। আমরাও চেষ্টা করবো আগের ফর্মটা যেন শেষ ম্যাচে ধরে রাখতে পারি।
 
দলের চোট সমস্যাগুলো কোন পর্যায়ে। আপনি ও তামিম দুজনেরই এ নিয়ে সমস্যায় আছেন। তাছাড়া আপনার উইকেট কিপিং..
ক্রিকেটে এমন ছোট-খাটো ইনজুরি আসতেই পারে। আল্লাহর রহমতে আমার ও তামিমের কোন চিড় নেই। আমরা হয়তো শতভাগ ফিট না; তারপরও দলের জন্য খেলবো। তামিম মাশাল্লাহ ভাল ফর্ম আছে। ওর ব্যাপারটা না খেলার মতো কিছু না। অবশ্যই কিছু ব্যথা আছে। সেটা কাটিয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত আছে সে। আমি কিপিং-এ থাকছি। ভাল লাগছে। আশা করি ওয়ার্মআপের আগে একটু করে দেখবো। টেস্ট ক্রিকেটে এটা সহজ নয়। টেস্ট ক্রিকেটে আমাকে পাঁচটি দিনের জন্য কিপিং করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। শতভাগ ফিট হয়তো হবো না; যতটুকুই আছি চেষ্টা করবো দলের জন্য খেলার।
 
লিটন কুমার দাসের অভিষেক নিয়ে অধিনায়ক হিসাবে আপনার কি মনে হচ্ছে?
আমি যদি কিপিংওয়াইজ ফিট থাকি তাহলে হয়তো আমারই কিপিং করার সুযোগ আছে অনেক বেশি। তারপরও আমি কালকে ওয়ার্মআপ পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এটা আমার সঙ্গে রিলেটেড কোন বিষয় নয়। আমার মনে হয় ও যোগ্য বলেই ১৪ জনের স্কোয়াডে আছে। কালকে যদি নাও সুযোগ পায় আমার মনে হয় ভবিষ্যতে সবচেয়ে ভাল একজন কিপার ব্যাটসম্যান পাবে বাংলাদেশ দল।
 
ভেন্যু প্রসঙ্গে
এটা আলাদা ভেন্যু। এখানেও উইকেটও আলাদা। আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। সবাই প্রস্তুত পাঁচ দিনের লড়াইয়ে মাঠে নামতে। আশা করি সে লড়াইয়ে আমরা জিততে পারবো এবং সিরিজ জয় করবো।
 
দ্বিতীয় টেস্ট জিতলে এটাই কি সেরা সিরিজ ?
সেটাতো অবশ্যই। এখন পর্যন্ত যেভাবে রেজাল্ট করেছে দল, আমার মনে হয় না, এর আগে এইরকম কোনভাবে করেছে। আমার মনে হয় না, ওদের তিনটি ফরম্যাটে তিন রকম দল ছিল। আমাদের জন্য এটা কম চ্যালেঞ্জের ছিল না। আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল; বিশ্বকাপে আমরা যেমন ভাল পারফরম্যান্স করেছি সেটা ধরে রাখা। টেস্ট সিরিজ আসলো, সেখানে সবার প্রত্যাশা ছিল। শেষ তিন মাস ভাল খেলার কারণে সবাই আত্মবিশ্বাসী।
 
সাকিবের বোলিং নিয়ে কি দুশ্চিন্তায় আছেন?
একটুতো অবশ্যই আছে। যেহেতু দলের সেরা বোলার, সাকিব পাঁচটি উইকেট পাবে, ছয়টি উইকেট পাবে। কখনো ১/২টি উইকেট পেলে হয়তো ভাবি ওর যোগ্যতা মত হয়তো পায়নি। মিরপুরে সাকিবের খুবই ভাল রেকর্ড আছে। আমি মুখিয়ে আছি ওর দিকে। ব্যাটিং বোলিং যদি ও খুব ভাল করতে পারে তাহলে এই টেস্ট আমাদেরই হবে।
 
কোন দলের সম্ভাবনা কেমন দেখছেন?
পাকিস্তান খুব ভয়ঙ্কর দল। তাদের বোলিং বলেন ব্যাটিং বলেন দুটোই খুব ভাল। অলমোস্ট ওয়ার্ল্ড ক্লাস। দুই দলের মধ্যে এক দলের জেতার সুযোগ সব সময়ই থাকে। আমাদেরও ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংটা ভাল। আমরা ভাল ফর্মে আছি। পাঁচদিন ধরে যে ভাল ক্রিকেট খেলবে; এই ১৫টা সেশনের মধ্যে কয়েকটা সেশন যে জয়লাভ করতে পারবে তারই জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এটা এখনই বলা যাবে না আমরা ফেভারিট কিংবা তারা ফেভারিট। এটা ফিফটি-ফিফটি গেম।