থাইল্যান্ডে আরো ৫টি কবরের সন্ধান

আপডেট : ০৬ মে ২০১৫, ০২:২৭

থাইল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ থাইল্যান্ডে আরো ৫টি কবরের সন্ধান পেয়েছে তদন্তকারী দল। মালয়েশিয়ার সীমান্তে এই কবরসহ একটি ক্যাম্পও খুঁজে পাওয়া যায় বলে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ জানায়। ধারণা করা হচ্ছে কবরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে অভিবাসীরা থাকতে পারেন। এছাড়া মানব পাচারের ঘটনায় আরো ইয়ালি খ্রেম নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে থাইল্যান্ডে হত্যাকান্ডের দুই প্রত্যক্ষদর্শীর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। খবর ব্যাংকক পোস্ট ও দ্য ন্যাশনের।

 
ধারণা করা হচ্ছে, ৫শ’ অভিবাসীকে হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র প্রায়াত থাবোর্নসিরি বলেন, সংখালা প্রদেশের প্রথম ক্যাম্প থেকে এই ক্যাম্প ২৫ কিলোমিটার দূরে। তিনি বলেন, আমরা ৫টি কবর খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু এতে কোন মৃতদেহ আছে কিনা সেই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত না। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষন করে দেখবেন। মানবাধিকার গ্রুপগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, মানব পাচারের বিষয়ে থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ চোখ বন্ধ করে আছে। সমপ্রতি থাইল্যান্ডেন সামরিক সরকার এ ঘটনায় অভিযান চালায়। প্রতি বছর বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম দক্ষিণ থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া যায়।
 

গত শুক্রবার গণকবর খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে যে দু্ই রোহিঙ্গা মুসলমান সহায়তা করেছিল তাদের নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নাখোন সাই থাম্মারাটের পুলিশের উপ-প্রধান আনুচন চামার্ট জানিয়েছেন, আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদেরকে মানব পাচারকারীরা যে কোন সময় হত্যা করতে পারে। এজন্য নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি কাশিম নামে এক রোহিঙ্গাকে মানব পাচারকারী আরনুয়া কর্তৃক হত্যা করতে দেখেছেন। কাশিমের চাচা কুরামিয়া যিনি একটি হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী। আরনুয়া কাশিমকে অপহরণ করে ৯৫ হাজার বাথ মুক্তিপন  (থাইল্যান্ডের স্থানীয় মুদ্রা) দাবি করে। কিন্তু মুক্তিপন দেয়া হলেও তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। এরপর আরো ১লাখ ২০ হাজার বাথ দাবি করেন আরনুয়া। এরপর কুরামিয়া পুলিশের কাছে যেতে বাধ্য হন। আর যে কারণে কাশিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। গত বুধবার পুলিশ আরনুয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।