স্থল সীমান্ত বিল ভারতের রাজ্যসভায় পাস

আপডেট : ০৬ মে ২০১৫, ১৮:৫১


ভারতীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বুধবার রাজ্যসভায় স্থল সীমান্ত বিল পাস হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের সাথে ৬৮ বছরের সীমান্ত সমস্যা সমাধানে আরো এক ধাপ এগোলো।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বিলটি পাসের জন্য রাজ্যসভায় উত্থাপন করেন। এরপর বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার পর ভারতের রাজ্যসভায় ১১৯তম সংবিধান সংশোধনী বিল সর্বসম্মতক্রমে পাস হয়। অধিবেশনের সভাপতিসহ ১৮১ জন রাজ্য সভার সদস্য বিলটি পাসের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে কোন ভোট পড়েনি।

বৃহস্পতিবার বিলটি লোকসভায় পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের ভেতর বাংলাদেশের ৫১ এবং বাংলাদেশের ভেতর ভারতের ১১১ ছিটমহল বিনিময় হবে। অপদখলীয় জমির মধ্যে মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে ২০০০ ও আসামের ২৬৮ একর পাবে বাংলাদেশ অচিহ্নিত সাড়ে ছয় কিমি সীমান্ত চিহ্নিত হবে।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সীমান্ত চুক্তি বিল নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি পার্লামেন্টে পাস হবে কিনা তা নিয়েও নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিলো। এর কারণ ছিলো আসামকে চুক্তি থেকে বাদ রাখার সরকারি পরিকল্পনা।

আসাম বিজেপির আপত্তির কারণেই আসামকে বাদ রেখে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল রাজ্যসভায় তুলতে চেয়েছিলো মোদী সরকার। কিন্তু আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ ও বিরোধীদল কংগ্রেসের আপত্তির মুখে সরকার এ সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। স্থল সীমান্ত চুক্তিতে আসামকে যুক্ত করেই সংবিধান সংশোধনী বিল ভারত সরকার অনুমোদন করেছে।

গতকাল সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংবিধান সংশোধনী খসড়া বিল অনুমোদন করা হয়।

গত সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত চলা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে আসামকে যুক্ত করেই পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত বিল উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ’র আহ্বানে বিজেপি নেতৃবৃন্দের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

অমিত শাহ’র বাসভবনে অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, সংসদীয় মন্ত্রী ভেংকাইয়া নাইডু, ক্রীড়ামন্ত্রী সোনওয়াল, বিজেপি’র সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবসহ আসাম বিজেপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।