কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শেয়ারবাজারে নজর দেয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

আপডেট : ০৬ মে ২০১৫, ১৯:২৯
 
 
কেন্দ্রীয় ব্যাংকে শেয়ারবাজারে নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধসের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজারে চাঙা অবস্থায় ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করে অনেক মুনাফা অর্জন করেছিল। হঠাত্ আইনের বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত বিনিয়োগকৃত অর্থ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়, তখন সব ব্যাংক মুনাফা নিয়ে বাজার থেকে বের হয়ে গেল। আর ছাত্র-শিক্ষকসহ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ভিখারিতে রূপান্তরিত হলো। তাদের ১০ লাখ টাকার পুঁজি ৫ লাখ টাকায় নেমে এল। এ সব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কারো কাছে যাওয়ারও সুযোগ নেই।’
 
বুধবার রজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (বিয়াক) ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই) আয়োজিত এক সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
 
‘বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে শালিসি ব্যবস্থা ও ব্যাংকের বকেয়া ঋণ উদ্ধার’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিয়াকের চেয়ারম্যান ও আইসিসিবির প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান।
 
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে ৫০০ কোটি টাকার উপরে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধ শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। সেমিনারে বক্তারা এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
 
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি আমার কাছে ভালো লাগেনি। যারা কম ঋণ নিয়েছে এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে, তারা কী পেল?’
 
সেমিনারে বক্তারা বানিজ্যিক বিরোধ নিয়ে ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিরোধ আদালতের বাইরে বিকল্প উপায়ে সালিসি ব্যবস্থায় নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেন। বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিয়াক প্রতিষ্ঠিত হলেও এর মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির হার আশানরূপ না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন। তারা বলেন—এ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে সময় ও খরচ বাঁচে।
 
এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী তথ্য দিয়ে বলেন, ‘অর্থ ঋণ আদালতে বর্তমানে ৩৭ হাজার ১৮৮টি বাণিজ্যিক বিরোধের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এতে অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা।’
 
তিনি বলেন, ‘ঋণ গ্রহীতা মুক্তি পেলে আর ব্যাংকের স্বর্থ রক্ষা হলে মেডিয়েশন বা মধ্যস্থতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো আপত্তি নেই, আইনেও এর স্বীকৃতি রয়েছে। এ বিষয়টি আরো কার্যকর করতে শিগগিরই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করার উদ্যোগ নেয়া হবে।’ ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ার জন্য অনাদায়ী ঋণ ও সঞ্চয়পত্রের উচ্চ সুদের হারকে দায়ী করেন তিনি।
 
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভয়ে মেডিয়েশন প্রক্রিয়ায় আসতে ভয় পান, এ ক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। মেডিয়েশনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক বিরোধ দূর করলে স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়। এ ছাড়া, এ পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামগ্রিক ক্ষমতা পক্ষদ্বয়ের ওপর থাকে, তা বিচারকের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল নয়।’
 
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন—আইন মন্ত্রণালয়ের সংসদ বিষয়ক সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক, এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুরসহ বিভিন্ন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।