ছাত্রলীগ কর্মী পিটালো ২ ঢাবি ছাত্রকে

আপডেট : ০৬ মে ২০১৫, ২০:৪৩
অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ কর্মীদের মারধরের শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার রাতে পৃথক দুইটি ঘটনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আহত মাসুদ আল মাহাদী ও দ্বিতীয় বর্ষের আহত আলী আহসান ভূইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
 
এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সৌমিত্র ধর ও আরিফ নামে দুইজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
 
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শান্ত ধরের ছত্রছায়ায় সৌমিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান করছেন। সৌমিত্রও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন।
 
আর আটক আরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি হলে ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী।
 
প্রথম ঘটনা
মাসুদের সঙ্গে থাকা সহপাঠী মীর আরশাদুল হক জানান, রাতের খাবার খেতে তারা ওই ক্যান্টিনে গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের পাশে আরো দুজন খাবারের অপেক্ষায় বসে ছিলেন।
 
“ক্যান্টিন বয় এসে ওই দুজনের কাছে টোকেন চাইলে তারা টোকেন ছাড়াই খাবার আনতে বলেন। ক্যান্টিন বয় খাবার আনতে দেরি করায় মাসুদ ওই দুইজনকে বলেন, টোকেন নিয়ে এলে দ্রুত খাবার পাওয়া যাবে।
 
এ সময় ওদের একজন ক্ষিপ্ত হয়ে ‘তুই আমাকে চিনিস? আমি টোকেন নেব কেন? তোরা কোন হলের’ বলে শোরগোল করতে থাকেন। উত্তরে তারা সূর্যসেন হলের কথা বললে ওই দুইজন ফোন করে আরো ২০-২৫ জনকে ডেকে এনে মাসুদকে মারধর করে বলে আরশাদুল জানান।
 
IMG0
দ্বিতীয় ঘটনা 
রাত সাড়ে ১১টার দিকে ‘গেস্ট রুম দখলের’ প্রতিবাদ করে বিজয় একাত্তর হলে মারধরের শিকার হন আলী আহসান।
 
ঘটনার সূত্রপাত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সোহেল তানভীরকে হলের গেস্ট রুমে ডেকে নেওয়াকে কেন্দ্র করে।
 
সোহেল তানভীর জানান, হলে ছাত্রলীগ কমিটির পদপ্রত্যাশী আরিফের সমর্থকরা গেস্ট রুম দখলে রাখতে প্রতিদিনই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফোন করে সেখানে ডেকে নিত। ‘‘মঙ্গলবার রাতে আমাকে গেস্ট রুমে ডেকে নিলে আমি বিষয়টি ফোনে বিভাগের সিনিয়র আলী আহসানকে জানাই। আহসান ভাই গেস্ট রুমে এসে এর প্রতিবাদ করলে আরিফ সঙ্গীদের নিয়ে তাকে মারধর করে।’’
 
অভিযোগ পেয়ে পরে হল কর্তৃপক্ষ প্রোক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে আরিফকে আটক করে শাহাবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয় বলে জানান সোহেল।
 
বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ এ জে শফিউল আলম ভূইয়া জানান, ঘটনা তদন্তে হলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রবিউল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হবে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।