ইয়াবা বন্ধের আশ্বাস দিলেও যৌথ ইস্তেহার স্বাক্ষর হয়নি

আপডেট : ০৬ মে ২০১৫, ২০:৫৬
 
ইয়াবা বন্ধে মিয়ানমান সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও যৌথ ইস্তেহার স্বাক্ষর হয়নি। দেশে ফিরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিন্ধান্তের কথা জানাবে বলে জানিয়েছে সফরকারী মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল। মিয়ানমার-বাংলাদেশ  ডিজি মাদক পর্যায় দুই দিনের বৈঠক শেষে গতকাল  বুধবার শেষ হয়েছে।
 
বৈঠক শেষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকাস্থ মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে সফরকারী মিয়ামারের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হাজির হবার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে রাজি হননি।
 
বৈঠক সর্ম্পকে মাদক মহাপরিচালক বজলুর রহমান বলেন, সফলতা অনেক বলতে হবে। ২০১১ সালের পর তাদের ( মিয়ানমারের) সঙ্গে বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। এ বৈঠকে সার্বিক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। সফরকারী টিমও আমাদের প্রস্তাবে একমত হয়েছেন। আশাকরি এরপর প্রতিবছর একবার দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
 
তিনি বলেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিস্ট সংস্থা সমূহের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে এবং যার ফলশ্রুতিতে মিয়ানমার হতে পাচার হয়ে আসা অবৈধ মাদক বিশেষ করে ইয়াবা উত্পাদন ,পাচার, ও পাঁচারের কাজে জড়িত চক্রকে দমন করা সম্বভ হবে।
 
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দুই দিন ব্যাপী বৈঠকে প্রথম দিন আলোচনা শেষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৩ পৃষ্টার একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। এরমধ্যে রয়েছে মিয়ানমারে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৯টি ইয়াবা কারখানা এবং সংশ্লিস্টদের তালিকা। কথা ছিল বৈঠক শেষে তারা যৌথ ইস্তেহারে স্বাক্ষর করবে। কিন্তু সফরকারী মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল স্বাক্ষরের ব্যাপারে  আপত্তি করেন।
 
তারা জানিয়েছে, মিয়ানমারে পৌছে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
 
ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইয়াবা কারখানার যে তালিকা দেয়ার পর প্রথমে তারা বিষযটি অস্বীকার করে। পরে আলোচনা শেষে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি সফরকারী মিয়ানমানের প্রতিনিধি দল ইয়াবার কাঁচা মালের ব্যাপারে জানায়, ইয়াবার কাঁচা মাল আগে চীন থেকে। এ জন্য তারা চীনের সঙ্গে আলোচনারও তাগিদ দেন।
 
তারা আরো জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা বাংলাদেশে আসে, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমান গাঁজা পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে।