স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় প্রতিনিধিদের অর্থ ব্যয়ের সুযোগ বাড়াতে হবে। এজন্য আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। বুধবার ‘আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার বাজেট’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ মত দেন।
গভার্নেন্স এডভোকেসি ফোরামের আয়োজনে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী।
পিকেএসএফ’র চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, এমপি। সভায় গভার্নেন্স এডভোকেসি ফোরামের সমন্বয়কারী মহসিন আলীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ সহ আরো অনেকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় স্থানীয় সরকারকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। তবে স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে অর্থ ব্যয়ের জন্য স্থানীয় সরকারের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়ের জন্য একটি কমিশন করা যেতে পারে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রতিনিধিদের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করা দরকার।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ উন্নয়নে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। সরকারও বিষয়টি স্বীকার করে। কিন্তু এজন্য কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষমতারও বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। আমাদের দেশে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা আমলাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছে যে কোন কোন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আদতে কোন কাজেই লাগে না। এর উদারহরণ হলো জেলা পরিষদ। ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী আরো বলেন, সরকার যদি মানুষকে ঠিকভাবে সেবা দেয় তাহলে মানুষ কর দিতে অনীহা করবে না। অথচ ভালভাবে সেবা দিতে না পারায় আমাদের আয় বাড়লেও সে তুলনায় কর আদায় বাড়েনি।
ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশের দরিদ্র ও অতি দরিদ্রদের সাথে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা সরাসরি জড়িত। তাই তারাই দারিদ্র্য নিরসনে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই তাদেরকে আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে অনেকেই এ খাতে দুর্নীতির অভিযোগ করেন। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে অর্থায়নের ক্ষমতা না দেয়া ঠিক হবে না। কারণ দেশের সব খাতেই দুর্নীতি হয়।
