ছিটমহলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিষ্টি বিতরণ

আপডেট : ০৬ মে ২০১৫, ২২:১২
 
অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার বিকালে ভারতের রাজ্যসভায় বাংলাদেশ ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন বিল পাস হওয়ার পর কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহল ১৫০নং দাসিয়ার ছড়ার কালিরহাট বাজারে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এসময় শত শত নারী পুরুষের উপস্থিতি আনন্দ মেলায় পরিণত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে উল্লাস প্রকাশ করেন।
 
পঞ্চগড়, জেলা সদরে অবস্থিত ভারতীয় গারাতি ছিটমহলের অনেক মানুষ পার্শ্ববর্তী পুকুরী ডাঙ্গা বাজারে টিভি দেখতে আসেন। বিকালে টেলিভিশন চ্যানেলে ভারতের রাজ্যসভায় বিলটি পাসের ব্রেকিং নিউজ দেখতে পেয়ে আনন্দে হই-হুল্লোড়ে বাজারে অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শোরগোল শুনে আশপাশের গ্রামের লোকজনও হাজির হয় সেখানে। তাৎক্ভাষণিকভাবে তারা আনন্দ মিছিলও বের করে।
 
বিলটি পাশের জন্য তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানায়। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, এই মাসের মধ্যে সকল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়ে আগামী মাসের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হবে।
 
পঞ্চগড় প্রতিনিধি সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম জানান,  গারাতি ছিটমহলের কানাপাড়া গ্রামের অধিবাসী ফয়জুল হক (৭৫) বলেন, আমি অবিভক্ত ভারতে জন্মগ্রহণ করেছিলাম। খুব ছোটবেলায় আমরা হিজড়ার মত হয়ে যাই। পাক-ভারত বিভক্তির ফলে আমরা ভারতীয় নাগরিক হয়ে থেকে যাই বাংলাদেশী ভূখণ্ডে। সে কি যন্ত্রণা তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। এতদিন মনে করেছিলাম আমার জীবন থাকতে ছিটমহল বিনিময় দেখে যেতে পারব না। কিন্তু ধারণা পাল্টে গেছে। ধীরে ধীরে সব বাধা কেটে যাচ্ছে। এখন সত্যি সত্যি আমরা শৃঙ্খলমুক্ত হতে চলেছি।
 
দেবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহল দহলা খাগরাবাড়ির চেয়ারম্যান রাব্বুল আলম জানান, আমরা এখন আর অপেক্ষার প্রহর গুনছি না; ক্ষণ গণনা করছি। আমরা যে কি আনন্দিত হয়েছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।
 
রংপুর অফিসের ওয়াদুদ আলী জানান, ভারতের রাজ্যসভায় বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল পাস হওয়ায় দু’দেশের সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এবং জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। গতকাল রংপুরে তার পল্লী নিবাস বাসভবনে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ তার সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় জাতীয় পার্টির (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের, বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সভাপতি মইনুল হক, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, পঞ্চগড়-নীলফামারী ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মফিজার রহমান এবং ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির ভারত অংশের চীফ লিগ্যাল এডভাইজার এ্যাডভোকেট আহসান হাবিব  উপস্থিত ছিলেন।
 
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা আজিজুল হক দুলাল জানান,  বুধবার বিকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় বৃহত্তম ১১৯ নম্বর বাঁশকাটা ছিটমহল, ৪ নম্বর বড় খেঙ্গির ছিটমহলের অধিবাসীরা আনন্দে উত্ফুল্ল হয়ে ওঠেন। ছিটমহলের দয়ালুরটারী, বড় খেঙ্গিরবাড়ী ছিটমহল, জোংড়া ইউনিয়নের বাঁশকাটা ছিটমহল, ১৬ নম্বর ভোটবাড়ী ছিটমহলেরএলাকা সমূহে অধিবাসীদের চোখে- মুখে আনন্দ আর খুশি। ছিটমহল ইউনাইটেড কাউন্সিলের (এস.ইউ.সি) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান গোলাম মতিন রুমি বলেন, ছিটমহলের অধিবাসীদের দীর্ঘ দিনের সমস্যা সমাধান হচ্ছে এ ধরণের খবরে সকল ছিটমহল জুড়ে ঈদের দিনের মত আনন্দ বইছে।