আগের দিন জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানকে জয় বঞ্চিত রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাবে তার দল। কিন্তু গতকাল মিরপুরে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের উদ্বোধনী দিনে টস জয়ের পাশাপাশি প্রথম সেশনটি ভাল কাটলেও পরিকল্পনাটি ভালভাবে এগোয়নি মুশফিকুর রহীমের দলের।
সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গতকাল ঢাকার মিরপুর শের এ বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মাঠে নামা বাংলাদেশ টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। বল হাতে ইনিংস শুরু করা শাহাদাত হোসেন মাত্র দুই বল করার পরই চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর মাঠে ফিরলেও মধ্যাহ্ন বিরতির সময় আরেক ধাক্কায় ছিটকে পড়েন অন্যতম প্রধান এই বোলার।
এই সিরিজে চোট সমস্যা বাংলাদেশের জন্য নতুন হলেও দ্বিতীয় সমস্যাটা পুরনোই, ক্যাচ মিস। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসের মতোই কালও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সব সময়ে ক্যাচ হাতছাড়া করেন ফিল্ডাররা। কিছুটা দায় হয়তো চাপানো যায় অদৃষ্টর কাঁধেও। আজহার আলী একবার আউট হলেও বেঁচে যান বোলার শহীদ নো বল করায়। আর ক্যাচ হাতছাড়া হয়েছে ইউনুস খানের। পরে দুজনই তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। আজহার আলী অপরাজিত আছেন এখনও।
দুজনের আড়াইশ’ রানের পার্টনারশিপে পাকিস্তান প্রথম দিনে তিন উইকেটে ৩২৩ রান তুলে হতাশ করে স্বাগতিকদের। এর মধ্যে সান্ত্বনা হলে শেষ বিকেলে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পেসার মোহাম্মদ শহিদের ইউনিস খানকে ক্রীজ ছাড়া করে আবার খেলায় ফেরার চেষ্টা। নইলে ইউনিস খান ও আজহার আলী দিনের অধিকাংশ সময়ে ব্যাট চালিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে খেলাটিকে একতরফা করার চেষ্টা চালিয়ে যান। অথচ দুজনে হাল ধরার আগে ৫৮ রানে পাকিস্তানের দুই ওপেনারকে সাজ ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিল মুশফিক বাহিনী। প্রথম উইকেটটির তো পতন হয়েছিল কেবল নয় রানে। তখন মাত্র চতুর্থ ওভারের খেলা চলছিল। শহিদ তুলে নেন খুলনায় ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজকে (৮)। এরপর দলীয় সংগ্রহে ৪৯ রান যোগ করার পর বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন আরেক ওপেনার সামি আসলামকে।
এরপর ইউনিস ও আজহারের ব্যাটিংয়ে দফায় দফায় জীবন দেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। শহিদ ও সৌম্য সরকারই দু’দফায় নোবল করে বাঁচিয়ে দেন তাদের। এদের আউট করতে বাংলাদেশ দল কাল মিরপুরে মুশফিক ও তামিম ইকবাল ছাড়া আর প্রায় সবার হাতেই বল তুলে দিয়েছিল। কিন্তু সাফল্য আসেনি। বরং ইউনিস ও আজহার উইকেটে স্থিত হয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন পাকিস্তানকে।
পাকিস্তান ইনিংসের ৭২তম ওভারের মধ্যেই প্রথমে ইউনিস ও পরে আজহার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ইউনিসের এটি ছিল ২৯তম টেস্ট সেঞ্চুরি। যদিও সৌম্য সরকারের মিডিয়াম পেসে ৭৮ রানের সময় আউট হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় সৌম্য বলটি ছোঁড়ার সময় বোলিং ক্রীজের ভেতর পা রাখতে পারেননি। ইউনিসের পর আজহার টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নেন। দুজনের ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির পর ডাবল-সেঞ্চুরির পার্টনারশিপও গড়েন তারা ৩০৫ বলে। তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ।
মাঝের সেশনে কোন উইকেট না পেলেও দিনের খেলার শেষ দিকে শহীদ ১৪৮ রানে থাকা ইউনিসকে আউট করে দলকে লড়াইয়ে ফেরান। ইউনিসের ১৯৫ বলের ইনিংসে ছিলো ১১টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছক্কার মার। দলীয় ৩০৮ রানে ইউনিসের বিদায়ের পর ক্রীজে আজহারের সঙ্গী হন পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হক। আজহার ১২৭ ও মিসবাহ ৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তখন।
স্বাগতিকদের জন্য দিনের শুরুটাই ছিল হতাশার যখন শাহাদাত বল করতে এসে হাঁটুতে চোট পেয়ে দুই বলের পর ওভারই শেষ করতে পারেননি। অথচ দলের নীতি-নির্ধারকরা তাদের আট ব্যাটসম্যান কৌশলের জন্য কেবল দুই পেসারকেই রাখেন একাদশে। তার মধ্যেই শাহাদাত ব্যথা পেয়ে মাঠ ছেড়ে যান এবং আবার ফেরেন ১৭তম ওভারে। লাঞ্চের পর তার বোলিং করার কথা ছিল। কিন্তু লাঞ্চের সময় তিনি বোলিং অনুশীলন করতে গিয়ে চতুর্থ বলের সময় মাটিতে পড়ে যান। এরপর তাকে স্ট্রেচারে করে ড্রেসিং রুমে আনতে হয়। অথচ শাহাদাতকে দলে নেয়া হয়েছিল আরেক ফাস্ট বোলার রুবেল হোসেন খুলনা টেস্টে খেলতে গিয়ে ইনুজুরিতে পড়ায়। নইলে হয়তো দিনটি ভিন্ন রকম হতে পারতো।