চীনের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: চীনা বিশেষ দূত

আপডেট : ০৭ মে ২০১৫, ০০:৩৭

সফররত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দূত চাই শি বলেছেন, বাংলাদেশ চীনের বিশ্বস্ত বন্ধু দেশ। চীনের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামো উন্নয়নে চীন খুবই আগ্রহী। এদেশের জনগণের কল্যাণে চীন সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

 
রাষ্ট্রদূত চাই শি তিনদিনের সফরে ঢাকায় এসে বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষােশষে সাংবাদিকদের একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কয়েক বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বেশ উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ কোন সমস্যা থাকলে নিজেরাই তার সমাধান করতে পারেন।
 
সাক্ষাতের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চীনের বিশেষ দূতকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশ ও চীন দুই দেশের মধ্যকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিনির্মাণে রাষ্ট্রদূত চাই শির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এশিয়ান ইনফ্রাষ্ট্রার ব্যাংক (এআইবি) গঠনে চীনের উদ্যোগের  প্রশংসা করে শাহরিয়ার আলম বলেন যে, এ ব্যাংক এশিয়ার দেশসমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
 
বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত চাই শি বলেন যে,বাংলাদেশের অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব। বর্তমানে চীনের বিনিয়োগকারীরা বিশ্বের অন্যান্য দেশে ব্যবসায় স্থানান্তর ও বিনিয়োগে আগ্রহী। এক্ষেত্রে যৌক্তিক শ্রমমূল্য, অত্যন্ত সুশৃংখল, কঠোর পরিশ্রমী এবং দক্ষ শ্রম সম্পদ সম্পন্ন বাংলাদেশ চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 

বাংলা ভাষায় পারদর্শী রাষ্ট্রদূত চাই শি বাংলা শিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি তাঁর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে এ্যাটাসে, দ্বিতীয় সচিব, প্রথম সচিব, কাউন্সেলর সবশেষে ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশকে তার  দ্বিতীয় আবাসভূমি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত চাই শি বলেন, বাংলাদেশের জন্য তাঁর হূদয়ে রয়েছে বিশেষ স্থান ও মমতা। ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বর্ধন, ঢাকা- চট্টগ্রামের মধ্যে উন্নততর যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুত্ উত্পাদন, অবকাঠামো নির্মাণে অর্থায়ন, আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা, মানব পাচার ইত্যাদি বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।