কূটনৈতিক সাফল্যে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পথে

আপডেট : ০৮ মে ২০১৫, ০০:১৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাজ্যসভায় সীমান্ত বিল পাস হওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের তার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার কারণেই ঐতিহাসিক এই সমস্যা সমাধানের পথে। এটা বাংলাদেশের একটা বড় অর্জন। তিনি এ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে অভিনন্দন জানান।

 
গতকাল সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দশম জাতীয় সংসদ     শুরু হওয়ার পর গত বছর ১৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। গতকাল ছিল তার দ্বিতীয় পরিদর্শন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরের বছরই  ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় হওয়া ছিটমহল সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন। ১৯৭৪ সালে সাক্ষরিত হয় বাংলাদেশ ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি। বঙ্গবন্ধু সে বছরই এ চুক্তি বাস্তবায়নে প্রথমবারের মত সংবিধান সংশোধন করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এই প্রক্রিয়া থেমে যায় এবং পরবর্তী কোনো সরকার এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ওই সরকারগুলো স্বাধীনতা বিক্রির অভিযোগ করে কেবল আওয়ামী লীগকে গালিই দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে যে, তারা দেশের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে ভারত ও অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঝুলে থাকা সব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে আবারো এই প্রক্রিয়া থেমে যায়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় ফিরে এসে আওয়ামী লীগ সরকারই এই প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। এ সময় তিনি ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমা বিরোধ নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ করেন।
 
আগুন সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগুন সন্ত্রাসীরা কোন ক্ষমা বা ছাড় পাবে না। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করার মতো মানবতারবিরোধী অপরাধ যারা করেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। আর যাতে কেউ এমন অপরাধ করতে না পারে সেজন্য তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের কাজ করার সাহস না পায়। এ প্রসঙ্গে একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইভটিজিং ও এসিড সন্ত্রাস যখন শুরু হয় তখন কঠোর শাস্তি দিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। ঠিক একইভাবে অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে নইলে এ সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। দেশে জঙ্গিবাদ যেন মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি সন্ত্রাস এবং অপরটি জঙ্গিবাদ। এরমধ্যে একটি পেশাদার জঙ্গিবাদ এবং অপরটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মদদে জঙ্গিবাদ। তিনি বলেন, কোনো ধরনের জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, অঙ্কুরেই যেন তা বিনষ্ট হয়। সেভাবে সবসময় তড়িত্ ব্যবস্থা নিতে হবে।
 
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট তথাকথিত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেছে। যা দেশের জনগণের পাশাপাশি আমিও অতীতে কখনো দেখেনি। সন্ত্রাসীদের দমন এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম রোধের পাশাপাশি কোন ধরনের প্রাণহানী ছাড়াই তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক, চোরাচালান, শিশু ও নারী পাচার বন্ধে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তথ্য আদান-প্রদান করে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষকে আরো সচেতন করতে হবে। চোরাচালান রোধে জাতীয় কমিটিকে চোরাচালান রোধে আরো সচেতন হতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কল্যাণ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের আধুনিকায়নে সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া জোরদারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
 

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ এ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।