১৯৭৪ সাল। আজ থেকে ৪১ বছর আগের কথা। চুক্তি হল মুজিব-ইন্দিরা। এই চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কত না কথাই হয়েছে। গোটা দেশের রাজনীতিতে উলোট-পালোটও কম হয়নি। বিতর্ক-পাল্টা বিতর্কে ঘটে গেছে বহুদিন। একে গোলামী চুক্তি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের নামে লিখে দেয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণও এক সময় এরকম অভিযোগ বিশ্বাস করতে শুরু করে। কিন্তু বাস্তববতা যে ভিন্ন তা আজ ৪১ বছরে পা রেখে প্রমাণ হল, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিটি নেহাতই দুদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্র পাকাপোক্ত করা আর ন্যায্য হিস্যা ভাগাভাগির। ঐতিহাসিক চুক্তিটি শেষঅবধি দুই দেশের জনগণকে রাখিবন্ধনে আবদ্ধ করলো। বাংলাদেশ পেল তার ন্যায্য সামীনা আর ভারত আবারও স্বীকৃতি দিল বাংলাদেশের জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ সমর্থন আর শরণার্থী আশ্রয় দিয়ে ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল। আর ওই যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমারেখাকে ফিরিয়ে দিয়ে আবারও প্রমাণ করলো তারা বাংলাদেশেরই বন্ধু। যদিও মোদী সরকারের কূটনৈতিক লক্ষ্যই হচ্ছে আঞ্চলিক বন্ধুত্ব জোরদার করা। বলা চলে তারই অংশ হিসাবে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বস্ত সম্পর্ক ধরে রাখতে চাইছেন। তাই আগের অবস্থান পরিত্যাগ করে শেষতোক তিনিই উদ্যোগী হয়ে বাংলাদেশ স্থল সীমানা বিরোধে ভূমিকা রাখলেন। আর তা সে দেশের সর্বোচ্চ আইন সভায় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পাকাপোক্ত করে রাখলেন।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিগত কংগ্রেস সরকারের সময় স্থল সীমান্ত চুক্তির ব্যাপারে বিজেপি বিরোধিতা করেছিল। এর আগে বাজপেয়ী সরকারের সময়ও চুক্তির বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গিয়েছিল। এখন নরেন্দ্র মোদী সরকারের সময় এ চুক্তি অনেকটাই অবিশ্বাস্য। বিলটি পাস হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, বিজেপি আগের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসেছে। নতুন কূটনীতির ধারা এখানে প্রয়োগ হয়েছে। এ ধ্যান-ধারণা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। শুধু সরকারের সাথে সরকারের নয়, জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্কেরও উন্নতি ঘটবে।
