চট্টগ্রামে বাসায় ঢুকে মা-মেয়েকে হত্যা

আপডেট : ০৮ মে ২০১৫, ০০:৩৮

চট্টগ্রামে বাসায় ঢুকে এক মা ও তার শিশু কন্যাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার ছয়তলা ভবনের চারতলায় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন— নাসিমা বেগম (২৮) ও তার মেয়ে রিয়া আক্তার ফাল্গুনী (৮)।

 
পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জোড়া এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নাসিমা বেগমের পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে এবং রিয়াকে জবাই করে হত্যা করা হয়। রিয়ার লাশ বাসার বাথরুমের ভেতরে এবং নাসিমার লাশ বাথরুমের সামনে ফেলে রেখে যায় খুনিরা। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদারের নেতৃত্বে পুলিশের বিশেষ টিম, ডিবি পুলিশ, সিআইডি ও র্যাবের টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
 
হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। তবে নিহতদের পরিচিতরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কেউ গ্রেফতার না হলেও বাসার গৃহশিক্ষক রকিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এছাড়া নিহত নাসিমার ভাই আলাল, বাসার দারোয়ান ও নিচের তলায় আবাসিক হোটেলের কর্মচারীসহ কয়েকজনকে পুলিশ ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। নাসিমার স্বামীকেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে মহানগর ডিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।   
 
জানা গেছে, নিহত নাসিমার স্বামী শাহ আলম ওরফে চেয়ারম্যান পেশায় একজন কসাই। তাদের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। রিয়া ছাড়াও হূদয় ও রিয়াদ নামে তাদের আরো দু’টি ছেলে রয়েছে। রিয়া পূর্ব মাদারবাড়ি বালিকা বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার দুই ভাই নিউমার্কেট এলাকার মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুলে পড়ে। নালাপাড়া এলাকায় শাহ আলমের ফার্মের মুরগি ও খাসীর মাংসের দুটি দোকান রয়েছে।  ৪ মাস আগে তিনি দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় আল ইসলাম ভবনের চারতলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে পরিবার নিয়ে ওঠেন। এই বাসায় স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ছাড়াও শাহ আলমের পিতা-মাতা ও শ্যালক থাকতেন। এছাড়া অনেক আত্মীয়-স্বজন ও শাহ আলমের দোকানের কর্মচারীরা নিয়মিত এই বাসায় আসা-যাওয়া করতো। শাহ আলমের বাসার কাছেই দোকান । তাদের বাসায় এক নারী গৃহকর্মী কাজ করে।
 
অন্যান্য দিনের মত গতকাল সকালে শাহ আলম বাসা থেকে বের হয়ে যান। সকাল ৯টা ৭ মিনিটে স্ত্রী নাসিমা স্বামীকে ফোন করে দুই ছেলেকে স্কুলে দিয়ে আসতে বলেন। স্বামীর সাথে কথা বলে দুই ছেলেকে দোকানে যেতে বলেন।
 
এ বিষয়ে শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, দোকানে কাজের চাপ থাকায় নিজে স্কুলে না গিয়ে তার বড় ভাইকে ছেলেদের স্কুলে দিয়ে আসতে বলেন। বেলা সোয়া ১০টার দিকে কাজের বুয়া দোকানে গিয়ে নাসিমা ও তার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে খবর দেয়। খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখেন বাসার দরজা খোলা। ভেতরে সব রক্ত। বাসার আলমারি খোলা। সিঁড়িতেও কয়েক জায়গায় রক্তের দাগ ছিল। এ দৃশ্য দেখে শাহ আলম চিত্কার করে লোকজন ডাকতে থাকেন।
 

শাহ আলমের বাসার নিচের তলায় একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। শাহ আলমের বোন নাসিমা জানান, তার ভাবী ছিলেন শান্ত স্বভাবের। সে কখনো ভাই ও ভাবীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি হতে দেখেনি।