পিটিআইতে প্রশিক্ষক সঙ্কট অন্তহীন নিয়োগ প্রক্রিয়া

আপডেট : ০৯ মে ২০১৫, ০১:২৪

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় প্রায় তিন বছর আগে। লিখিত পরীক্ষা শেষে ফল প্রকাশের পরও কেটে গেছে এক বছর। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়েও অনুষ্ঠিত হচ্ছে না প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) প্রশিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা। ফলে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩২৯ চাকরি প্রার্থীর অপেক্ষা থামছে না। পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় সময় জটের কারণে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 
দেশের পিটিআইগুলোতে প্রশিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০১২ সালের ৫ জুলাই বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ২৯৪ জন পিটিআই প্রশিক্ষক (সাধারণ) নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। দেশে বর্তমানে ৬৯টি পিটিআই রয়েছে। এর মধ্যে নতুন নির্মিত ১২টিতে কোনো প্রশিক্ষক নেই। পুরনো ৫৭টি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬৫০ জন প্রশিক্ষক পদের বিপরীতে চারশ’ জনেরও কম প্রশিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এ অবস্থায় পিটিআই প্রশিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতা সংকটকে আরো বাড়াবে এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
 
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিকালীন প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই)। সম্প্রতি অধিকাংশ পিটিআই-এ ১ বছর মেয়াদী সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন (সি-ইন-এড) কোর্সের পরিবর্তে দেড় বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) প্রোগ্রাম চালু করা হয়। ৫৭টি পিটিআই’র মধ্যে ৩৬টিতে ডিপিএড প্রোগ্রাম চালু আছে। পিইডিপি-৩ কর্মসূচির অধীনে পিটিআই নেই এমন ১২টি জেলায় প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ১২টি পিটিআই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জটিলতার কারণে এ ১২টি ইনস্টিটিউটে এখনও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা যায়নি। সব মিলিয়ে পিটিআইগুলোতে প্রশিক্ষক সংকট তীব্র।
 
মন্ত্রণালয় এবং পিএসসি সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়াটির শুরুতে প্রার্থীদের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় ভুলবশত ৪ জন প্রার্থী বিভাগীয় প্রার্থী (পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, যাদের বয়সসীমা ৪৫ বছর পর্যন্ত) হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় দেখা যায়, এই চারজন প্রার্থী সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তাদের ৪৫ বছর বয়সসীমা অতিক্রান্ত। তাই পিএসসি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই চারজনের প্রার্থিতা বাতিল করে। কিন্তু তারা আদালতে রিট পিটিশন করে। আদালত নিয়োগের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।
 
কিন্তু বিবাদী পক্ষগুলো আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়ায় শুনানি হয়নি। এর মধ্যেই বাদীপক্ষের আবেদনের ফলে আদালতের স্থগিতাদেশের মেয়াদ কয়েক দফা বেড়েছে। চাকরি প্রার্থীদের অভিযোগ, বিবাদী পক্ষের অবহেলার কারণে মৌখিক পরীক্ষা হওয়া সত্ত্বেও এর ফলাফল প্রকাশ হয়নি এবং চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াটি এখনও বন্ধ হয়ে আছে।
 
২০১২ সালের ৫ জুলাই পিএসসি ২৯৪ জন পিটিআই ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ) নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ২০১৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ওই পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।  দীর্ঘ ১ বছর ৩ মাস পর ২০১৪ সালের ৫ মে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা  হয়। ১৬ থেকে ১৯ জুন মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি পিএসসি। গত মার্চে পিটিআইগুলোতে ইন্সট্রাক্টর (সাধারণ) সংকট কাটাতে নতুন ইনস্টিটিউটগুলোতে ২৪০ জন রিসোর্স পার্সন অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ৯০ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত রিসোর্স পারসনদের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
 

প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউটের এমন এক অধ্যাপক বলেন, মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণির কর্মকর্তার পিটিআইগুলোর ব্যাপারে আগ্রহ নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং আইনি সমস্যা মোকাবিলায় তাদের অনাগ্রহের কারণেই প্রার্থীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলে বেশকিছু সংখ্যক প্রার্থীর অনিশ্চয়তা কমে যাবে। পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ শাখাওয়াত্ হোসেন বলেন, আইনি বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতার কারণেই এখনও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।