দুরূহ লক্ষ্য, তবু লড়ছে বাংলাদেশ দল

আপডেট : ০৯ মে ২০১৫, ০১:৫৮

জয়ের জন্য পাকিস্তানের দেয়া ৫৫০ রানের কঠিন লক্ষ্যের পরও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আজ শনিবার ও আগামীকাল টেস্টটির অবশিষ্ট দুই দিনে জয়ের জন্য মুশফিকুর রহিমের দলের দরকার আরো ৪৮৭ রান। হাতে আছে নয় উইকেট। ক্রীজে আছেন খুলনা টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার তামিম ইকবাল (১৫) ও মোমিনুল হক (১৫)। স্বাগতিকরা সফরকারীদের দেয়া লক্ষ্যটির তাড়ায় কাল দ্বিতীয় ইনিংসে ইমরুল কায়েসের উইকেটটি খোয়ালেও ওভার প্রতি সাড়ে চার রান গড়ে হারিয়ে ৬৩ রান তোলে।

 
বাংলাদেশ এর আগে পুরনো সঞ্চয় ১০৭/৫ নিয়ে খেলতে এসে কাল প্রথম ইনিংসে সাকিব আল হাসানের অপরাজিত ৮৯ রানের পরও ফলো অন এড়ানোর লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। দলটি ৪৭.৩ ওভার টিকে থেকে অলআউট হয়ে যায় ২০৩ রানে। পাকিস্তান অবশ্য ফলো অন করানোর পরিবর্তে আবার ব্যাট ধরে এবং অধিনায়ক মিসবাহ উল হকের ঝড়ো ৮২ রানে ছয় উইকেটে ১৯৫ রান যোগ করলে বাংলাদেশ পায় দুরূহ এই লক্ষ্য।
 
কেননা টেস্ট ক্রিকেটে বড় লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের রেকর্ডটিই হলো ৪১৮ রানের। তাও ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা সেই রেকর্ড ১১ বছরের পুরনো। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে সাত উইকেটে এই রানগুলো তুলে জিতেছিলো ক্যারিবীয়রা।
 
সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার সাকিব কাল দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে জানান, পরিস্থিতি যা তাতে কোন অঘটন না ঘটলে ধরে নেয়া যায় টেস্টটিতে হারছেন তারা। তাই দুই একটি দেড়শ’ দুইশ’ রানের ইনিংস না হলে এই টেস্ট বাঁচানো সম্ভব না। তাছাড়া উইকেটটিও খুলনার মতো না। তাই ওয়ানডে সিরিজে ও একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে হারানো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সব মিলিয়েই পরিস্থিতি কঠিন।
 
সাকিবের পাশাপাশি অন্য ব্যাটসম্যানরাও লড়াই চালাতে পারলে চিত্রটা এদিন ভিন্নও হতে পারতো। কিন্তু ১৯তম টেস্ট হাফ-সেঞ্চুরির পর শুধু পার্টনারের অভাবে নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরিটি হাঁকানোরও সুযোগ পাননি দেশসেরা এই অলরাউন্ডার। তার ৯১ বলের ইনিংসটিতে ছিল ১৪টি চার ও দুই ছক্কার মার। ফাস্ট বোলার শাহাদাত হোসেন প্রথম দিনেই হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ায় বাংলাদেশকে ১০ ব্যাটসম্যান নিয়েই খেলতে হয়েছে। শেষ দিককার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এদিন তাইজুল ইসলাম (১৫) ছাড়া আর কেউই দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন পেসার ওয়াহাব রিয়াজ ও লেগ স্পিনার ইয়াসির শাহ। 
 

পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৩৫৪ রানে এগিয়ে থাকার পর আবার ব্যাট করতে এলে দুই ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ (০) ও সামি ইসলামকে (৮) দ্রুতই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ক্রমশ নজর কাড়তে থাকা বাংলাদেশ পেসার মোহাম্মদ শহীদ। এরপর সৌম্য সরকারের মিডিয়াম পেসে বিদায় নেন আজহার আলী (২৫)। তখন পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ ৪৯/৩। কিন্তু  ইউনিস খান ও মিসবাহ চতুর্থ উইকেটে দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টা চালান। ইউনিসকে ফিরিয়ে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসের আরেক সেঞ্চুরিয়ান আসাদ শফিক (১৫) ক্রিজে এলেও তাকে বেশি সুযোগ দেননি শুভাগত হোম। এর মধ্যেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৮তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে দল সর্বোচ্চ ৭২ বলে নয়টি চার ও তিন ছক্কার মারে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন মিসবাহ। মাহমুদুল্লা রিয়াদের বলে আউট হওয়ার পর মিসবাহ ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন। মোহাম্মদ শহীদ এই ইনিংসেও দুই উইকেট নেন। ততক্ষণে বাংলাদেশের জন্য খেলাটি আরো দুরূহ হয়ে পড়ে।