ভারতের প্রখ্যাত অভিনেতা সালমান খানের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের পর তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে টুইট করেছিলেন দেশটির অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা। এবার তার রায় স্থগিত ও জামিন দেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন সরকারি দলের নেতারা। ধনি ও ভিআইপি হওয়ায় তিনি সহজেই সাজা এড়াতে পেরেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সালমান খানকে বম্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় জনতা পার্টির নেত্রী কিরণ বেদী শুক্রবার এক টুইটে লিখেছেন, ২০০২ সালে হিট অ্যান্ড রান মামলায় সালমান খানের সাজায় বম্বে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ সাধারণভাবে এই বার্তাই দেবে যে, যদি আপনি ভিআইপি হন, তারকা, ধনি বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণির হন তাহলে আপনি সেরা আইনি সহযোগিতা পেতে পারেন এবং জেলে যাওয়ায় এড়াতে পারেন।
গত বুধবার মুম্বাইয়ের দায়রা আদালত সালমান খানকে গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সঙ্গে ২৫ হাজার টাকার জরিমানাও করা হয়। এ বিষয়ে জামিনের আবেদন জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয় এই অভিনেতার পক্ষ থেকে। আদালত সেই আবেদন মেনে নিম্ন আদালতের রায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে আপাতত জেলে যেতে হচ্ছে না তাকে।
এ বিষয়ে সরকারি দলের আরেক সাংসদ সাধ্বী প্রাচী তো বিতর্কিত মন্তব্যই করে বসেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সালমান খান মুসলিম না হলে, বিচার পেত দরিদ্র পরিবার’। প্রাচীর এই মন্তব্য নতুন করে তৈরি করেছে বিতর্ক।
এরও আগে রায়ের দিন সালমানে পক্ষে টুইট করে বিতর্কিত হন গায়ক অভিজিত ও চিত্র পরিচালক সঞ্জয় খানের মেয়ে ফারহা খান। অভিজিতের দাবি করেন, তারও এক বছর কোনো বাড়িঘর ছিল না। কিন্তু তিনি কখনই রাস্তায় গিয়ে শুয়ে পড়েননি। অভিজিত্ বলেন, ‘আত্মহত্যা যদি অপরাধ হয়, তবে ফুটপাতে শোওয়াও অপরাধ। কারণ সেটাও আত্মহত্যারই সামিল।’ অভিজিতেরই সুর শোনা যায় ফারহা খানের গলায়। সালমানের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে সরকারকেই দোষী সাব্যস্ত করেন তিনি। টুইট করে বলেন, ‘গরীবদের ঘর করে দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। এদেশে কাউকেই যদি রাস্তায় শুয়ে থাকতে না হতো, তাহলে সালমানের গাড়ির তলাতেও কেউ আসতেন না। রেলে কাটা পড়ে পথচারীর মৃত্যুতে ট্রেনের চালককে দোষী সাব্যস্ত করারই সামিল এই রায়।’ যদিও মন্তব্যের জন্য পরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফারাহ খান।
