ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি পাস হওয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ৪০ বছর ধরে ঝুলে থাকার পর সীমান্ত চুক্তি ভারতের লোকসভায় পাস হয়েছে। এজন্য মোদী সরকারকে আমি ধন্যবাদ দেব। মোদী সাহেব বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে তিনি এটি করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, আমি প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। কোনো দলের সঙ্গে নয়, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। বিএনপিও এটাই চায়। আওয়ামী লীগ এর আগে কংগ্রেস সরকারের অনেক দালালি করেছে। কিন্তু কংগ্রেসের কাছ থেকে কিছুই আদায় করতে পারেনি। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক করার জন্যই মোদি সরকার এ চুক্তি করেছে। দালালি করে সম্পর্ক ভালো করা যায় না। বিএনপি কারো দালালি করে না।
গতকাল শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরাম ও ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশনের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা কর আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি এডভোকেট মাজম আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে ১৭ জন নির্বাচিত কর্মকর্তাসহ জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত্ উপলক্ষে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ র্যাবের কাছেই আছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, আজ দুই মাস হয়ে যাচ্ছে আমরা সালাহউদ্দিনের কোন খোঁজ পাইনি। সালাহউদ্দিন র্যাবের কাছেই আছেন। অবিলম্বে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হোক। অন্যথায় যেখান থেকে তাকে তুলে নেয়া হয়েছে সেখানে রেখে আসা হোক। সালাহউদ্দিনের কোন ক্ষতি হলে এর পরিণতি ভাল হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন,আজ দেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই। কারণ দেশে জনগণের ভোটে কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। একে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায় না। এটি একটি পুলিশি স্টেট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, পেট্রোল বোমার সঙ্গে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের কোন সম্পর্ক নেই। আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়েছে।
খালেদা জিয়া দলের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমাদের দল পুনর্গঠনে যেতে হবে। ইতিমধ্যে আমরা প্রক্রিয়াও শুরু করেছি। যারা ত্যাগী-পরীক্ষিত, যারা দলের বিপদের সময়ে কাজ করেছেন, তাদের কমিটিতে আনা হবে। তাদের মূল্যায়ন করা হবে।
অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, আহমেদ আজম খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব হুমায়ুন কবীর, ঢাকা কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল গফুর মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বব্যাপী মায়েদের খালেদা জিয়ার শুভেচ্ছা
আন্তর্জাতিক মা দিবসে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
