ফাস্ট ট্র্যাকে এগিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প

আপডেট : ১০ মে ২০১৫, ১০:২৭
 
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বা ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পসমূহের মধ্যে কয়েকটিতে অগ্রগতি কিছুটা কম হলেও এগিয়ে রয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প। গত এপ্রিল পর্যন্ত পদ্মাসেতু প্রকল্পে ৩৩ শতাংশ অগ্রগতি হলেও গভীর সমুদ্র বন্দর ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে তেমন অগ্রগতি নেই। তবে মেট্রো রেল প্রকল্পের ডিটেইল ডিজাইনের কাজ ও রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অবকাঠামোর কাজ এগিয়ে চলছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ ও বড় প্রকল্পের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত বছরের ২২ মে ফাস্ট ট্র্যাকের মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। সেসময় পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রো রেল, এনএলজি টার্মিনাল নির্মাণ ও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্পসমূহকে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। এটি তদারকিতে গঠিত কমিটির প্রধান স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। চলতি বছর ৭ জানুয়ারি কমিটির তৃতীয় বৈঠকে আরো দুটি নতুন মেগা প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রকল্প দুটি হলো মাতারবাড়ি আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোলফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট এবং পায়রা বন্দর প্রকল্প। বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর সম্পন্ন হবে বলে সেসময় আশা প্রকাশ করা হয়। প্রতি চার মাস অন্তর এ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির সিদ্ধান্তও নেয়া হয়।
 
চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত কয়েকটি প্রকল্পের সর্বশেষ বাস্তবায়ন চিত্র:
 
পদ্মা বহুমুখী সেতু : প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। ২০৫০৭ কোটি টাকার প্রকল্পটিতে এ পর্যন্ত ৩৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রকল্পের মোট ১১২৪.৭৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ৯৪৪.৪২ কোটি টাকার সংস্থান আছে। মার্চ ২০১৫ পর্যন্ত তিন জেলার জেলা প্রশাসককে ১৪০৮.৫৪ হেক্টর ভূমির বিপরীতে ১০৯৬.৮৩ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত, স্থানচ্যুত পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনর্বাসনের জন্য ১৪২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সংস্থান রয়েছে। এ জন্য মাওয়া অংশে ২টি পুনর্বাসন গ্রাম এবং জাজিরা অংশে ২টি পুনর্বাসন গ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। অনুমোদিত সংশোধিত খসড়া প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি অনুযায়ী জাজিরা সংযোগ সড়ক, মাওয়া সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়া-২ এর নির্মাণ কাজে পরামর্শক এর সেবা প্রদান করছে বিআরটিসি ও বুয়েট এর সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (পশ্চিম)।
 
রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র : চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। ১৪৫১০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী প্রকল্পটি বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড এবং এনটিপিসি, ইন্ডিয়া এর যৌথ অর্থায়নে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড নামক গঠিত কোম্পানির তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১৮৩৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ৪২০ একর ভূমি উন্নয়ন সমাপ্ত হয়েছে। কয়লার উত্স ও প্রকৃতি সম্পর্কিত প্রাথমিক রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। কয়লা পরিবহন সম্পর্কিত রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার স্লোপ প্রটেকশন কাজের সমাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে চলতি বছর জুনে।
 
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ (১ম পর্যায়):এ প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে ৬৩ শতাংশ। তবে শর্তানুযায়ী চুক্তি মূল্যের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ করতে হয় এবং এলসি খোলার মাধ্যমে প্রকল্পের ডিজাইন ডকুমেন্টেশন প্যাকেজ, যন্ত্রপাতি ও সেবা আমদানি করতে হয় বিধায় প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি বাস্তব অগ্রগতির তুলনায় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এবং রাশিয়ান সরকার গত ২ নভেম্বর ২০১১ চুক্তি স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষরিত ১ম চুক্তির আওতায় নির্ধারিত কার্যক্রমের ৫টির মধ্যে ৩টি ইতিমধ্যে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ২য় চুক্তির ৫০ শতাংশের বেশি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং ৩য় চুক্তির কাজ শুরু হয়েছে। মূল নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করতে আগামী ডিসেম্বর এর মধ্যে আন্তঃসরকার ঋণ চুক্তি এবং জানুয়ারি ২০১৬ এর মধ্যে সাধারণ চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।
 
মেট্রো রেল প্রকল্প: ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পটি ২০১২ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। ২০২৪ সাল নাগাদ এটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এপ্রিল পর্যন্ত  সর্বমোট ২১৯৮৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২ দশমকি ১৭ শতাংশ। আগামি জুলাই ২০১৫ মাসে ডিটেইল ডিজাইনের কাজ শেষ হবে বলে জানা গেছে।
 
মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র:মোট ৩৫৯৮৪.৪৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রকল্পটি এপ্রিল পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ডিজাইন ও নির্মাণ কাজের সুপারভিশনের জন্য পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। সাইট অফিস নির্মাণ এবং ভূমি উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে।
 
এলএনজি টার্মিনাল:গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি টার্ম সিট স্বাক্ষর হলেও প্রকল্পের চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। এপ্রিল পর্যন্ত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চুক্তি অনুমোদন করেনি।

 

গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প: প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত থাকলেও আগ্রহী বিনিয়োগকারী না পাওয়ায় তা গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জি-টু-জি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে আগ্রহী দেশসমূহ ও উন্নয়ন অংশীদারদের নিকট হতে প্রাপ্ত প্রস্তাবনাসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সরকারের বিবেচনাপূর্বক সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে আহবায়ক করে দশ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।