নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ‘প্যানেলভুক্ত’ ২৩১ প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। এর বাইরে ১০ প্রার্থীর নিয়োগের বিষয়ে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের অনুমতির আবেদনও আপিল বিভাগ খারিজ করে দিয়েছিল।
রবিবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানিশেষে এই রায় দেয়। আদালতে ২৩১ জন প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। তাকে সহায়তা করেন মো. সুলতান মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দীপায়ন সাহা।
আবেদনকারীদের আইনজীবী মামুন মাহবুব বলেন, রায়ের ফলে শিক্ষক পদে প্যানেলভুক্ত ২৩১ জনকে নিয়োগ দিতে হবে। প্যানেলভুক্ত ৪২ হাজার ৬১১ জনের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ইতোমধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন। বাকি প্রায় ২৮ হাজার নিয়োগের জন্য আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের শূণ্য পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ নিয়োগ হবে উপজেলাভিত্তিক। চাকরি প্রত্যাশীদের পরীক্ষা নেওয়ার পর ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল উত্তীর্ণ ৪২ হাজার ৬১১ জনের তালিকা (প্যানেল) প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়।
এর আগে ২০১২ সালের ২১ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর এক পরিপত্রে এই পদে ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগের কথা জানিয়েছিল।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণ হলে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ আটকে যায়। এরপর রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, চাঁপাইনব্বগঞ্জ, জয়পুরহাট, যশোর, টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলার ২৩১ জন প্যানেলভুক্ত প্রার্থী গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ৯ ডিসেম্বর হাই কোর্ট রুল দেয়। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল আদালত রায় দেয়।
