বাংলা বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপীড়ন ও লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে রবিবার একটি ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশে, বিশেষ করে তরুণ ছাত্রীদের উপর পুলিশের হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
একইসঙ্গে অনতিবিলম্বে বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনটি।
সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও ন্যায্য দাবির সমাবেশে পুলিশের একাংশের তাণ্ডব এবং জেন্ডার অসংবেদনশীল আচরণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে পুলিশ এখন নিজেদেরকে সকল আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেছে। যা আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলা বর্ষবরণের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নারী নিপীড়ন প্রতিকারের বদলে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল। অন্যদিকে, এই ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের নির্মমভাবে দমনে অমানবিক ভূমিকা পালন করে এই বাহিনী তার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছে। আর এ ধরনের আচরকারী পুলিশ সদস্যদের পক্ষে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাফাইয়ের বিষয়টিও বেশি উদ্বেগজনক।
পুলিশের সকল কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নৈতিকতা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে অনতিবিলম্বে বিচার-বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, সনাতন পদ্ধতিতে তথাকথিত ‘ক্লোজড’ করা বা সাময়িক বরখাস্তের মত লোক-দেখানো পদক্ষেপ যথেষ্ঠ নয়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা প্রতিষ্ঠা ছাড়া গণতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
