বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে নারীদের শ্লীলতাহানি জামায়াত-শিবির ঘটিয়েছে কিনা তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নববর্ষে নারীদের শ্লীলতাহানির বিষয়ে উপযুক্ত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখ উদযাপন হোক এটা জামায়াত-শিবির চায় না। তারা বলে এটা একটা বিজাতীয় সংস্কৃতি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের সদস্যরা লিখেছে, পহেলা বৈশাখ উৎসব আমরা চাই না, যে মেয়েরা পহেলা বৈশাখের উৎসবে যাবে তাদের আমরা বিয়ে করবো না।
যারা চায় না বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন হোক তারাই এ ধরনের হীনকর্ম সংঘটিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সমস্যা সমাধানের কারণে আপনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সোনিয়া গান্ধীকে অভিনন্দন জানাতে ভুলে যাননি। কিন্তু যার চেষ্টায় স্থল সীমান্ত সমস্যা সমাধান হলো, সেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাননি। আপনি ভুলে যাবেন না বাংলাদেশ ও ভারতের স্থল সীমান্ত সমস্যা সমাধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণেই হয়েছে।
খালেদা জিয়ার উদ্দেশে হাছান মাহমুদ আরো বলেন, অতীতে আপনি এই চুক্তিকে গোলামির চুক্তি বলেছিলেন এবং আওয়ামী লীগকে ভারতের দালাল বলেছিলেন। এ বক্তব্যগুলো মূলত আপনার হিংসাত্মক ও হীনম্মন্য রূপের বহিঃপ্রকাশ। প্রকৃতপক্ষে আমরা প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বিশ্বাসী।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন, হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ পোড়ানোর সহিংস আন্দোলনে খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘এই সরকারের পতন ঘটিয়ে বাড়ি ফিরবো।’ তিনি ঘরে ফিরেছেন ঠিকই কিন্তু নিজের পতন ঘটিয়ে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহজালাল সাজু, সহ-সম্পাদক এম মে করিম, অধ্যাপক ফজলুল হক প্রমুখ।
