দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

আপডেট : ১২ মে ২০১৫, ২৩:৫৩

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য ‘আঞ্চলিক সাবমেরিন টেলিযোগাযোগ প্রকল্প, বাংলাদেশ’ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর ফলে ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইথ চাহিদা মিটিয়ে ক্যাবল সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখা যাবে বলে আশা করছে সরকার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬৬ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) ৩৫২ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা থাকছে। অন্যদিকে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকছে ১৪২ কোটি টাকা।

 
সভায় জানানো হয়, এর গ্রাউন্ড লোকেশন হবে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায়। বর্তমানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক তথ্য প্রযুক্তির মহাসড়ক এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪ নামক কনসোর্টিয়ামের আওতায় একটি মাত্র সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত। সংক্ষেপে একে এসএমডব্লিউ-৪ বলা হয়। কোন কারণে এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তার বিকল্প হিসেবে এসএমডব্লিউ-৫ ক্যাবলের মাধ্যমে সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হবে।
 
এবিষয়ে একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, এসএমডব্লিউ-৪ ক্যাবলটি বিশ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ। এর সাথে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের ১৪টি দেশের ১৬টি টেলিকম কোম্পানি যুক্ত আছে। এ কেবলটি কোন কারণে কাটা পড়লে বা অন্য কোন সমস্যা দেখা দিলে তা মেরামত করতে ৭ থেকে ১০ দিন লেগে যায়। ফলে, তথ্য প্রযুক্তির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। এ থেকে উত্তরণে আমরা ব্যাকআপ হিসেবে নতুন ক্যাবল এসএমডব্লিউ-৫ এর সাথে সংযুক্ত হবো। এর ফলে আরো ১৩০০ জিপিএস সাবমেরিন ক্যাবল ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে। এসএমডব্লিউ-৪ এর চেয়ে এসএমডব্লিউ-৫ দশগুণ অধিক শক্তিশালী।
 
গতকাল মঙ্গলবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ২৩৬৫ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫৩১ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য ৬৮১ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫৩ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৬টি নতুন এবং ৪টি সংশোধিত।
 

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হলো ২৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ওয়াসার অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্প, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ৪১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রকল্প, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ৬২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর-বিরল-পাকুয়া-রাধিকাপুর (বিরল স্থলবন্দর) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও পল্লী উন্নয়ন অনুষদের ভৌত ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি প্রকল্প, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৩১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বিএডিসির বিদ্যমান বীজ উত্পাদন, প্রকৃয়াজাতকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থাদির আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প। এছাড়া বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী, জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্প (২য় পর্যায়) ২য় সংশোধনী এবং বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স, কোটালীপাড়া, গোলাপগঞ্জ-এর সম্প্রসারণ সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ২য় সংশোধনী একনেকে অনুমোদন করা হয়।