প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেবে ১৪ দল

আপডেট : ১৩ মে ২০১৫, ০০:৫৬

ছিটমহল সমস্যা সমাধানে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেবে ১৪ দল। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে  আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৬২ বছর পরে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা নির্ধারিত হয়েছে। ভারতের পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে এটা পাস হয়েছে। এজন্য ১৪ দল সন্তোষ প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীসহ ভারতের সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে ধৈর্য-প্রজ্ঞা, সাহসিকতা ও কালজয়ী নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকায় একটা বড় অনুষ্ঠান করে জাতির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা বিস্মিত হয়েছি, বেদনাহত হয়েছি বিলটি পাস হওয়ার পর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অভিনন্দন জানালেন শুধুমাত্র ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও ১৪ দল নেত্রী শেখ হাসিনার কৃতিত্বের কথা একবারও উচ্চারণ করলেন না বিএনপি নেত্রী। যার নেতৃত্বে এই সীমান্ত চুক্তি সফল ও বাস্তবায়ন হলো তাকে অভিনন্দন না জানিয়ে তিনি (খালেদা) দেশের জনগণকে খাটো করেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক হীনমন্যতা থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি।

 
জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ছিটমহল সমস্যার কারণে যারা দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব বঞ্চিত ছিলেন, সমস্যা সমাধান হওয়ায় তারা নাগরিকত্ব পেয়েছেন, স্বাধীনতা পেয়েও যারা স্বাধীন ছিলেন না তারা ফিরে পাচ্ছেন স্বাধীনতা। তিনি বলেন, ছিটমহল সমস্যার সমাধান হওয়ায় জাতিগতভাবে সকলের প্রশংসা করা উচিত ছিলো। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এ সমস্যা সমাধান হওয়ার পর একটি দল বিদেশি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। কিন্তু নিজের দেশের প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন। পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত চুক্তি বিল পাস করার মাধ্যমে ভারতের সরকার উদারতার পরিচয় দিয়েছে। ভারতের সকল গণতান্ত্রিক শক্তি এই চুক্তিকে সমর্থন করেছে। এটা সকল গণতান্ত্রিক শক্তির জন্য শিক্ষণীয়। 
 
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ঐকমত্যের মানে এই নয় যে আমার মতের সঙ্গে সকলের এক মত হতে হবে। সীমান্ত চুক্তি করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শিতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন। এটা নিয়ে তিনি কী করছেন, এটা তাঁর ক্যাবিনেটের অনেকে জানতেন না। এর একক কৃতিত্ব তিনি (শেখ হাসিনা) একা দাবি করতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এটা তার উদারতা। তাই শুধু ১৪ দলের পক্ষ থেকে নয়, জাতির পক্ষ থেকে তাঁকে (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সংবর্ধনা দেয়া হবে। বৃটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন কন্যা রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিকী ও রূপা হককে অভিনন্দন জানান তিনি। 
 
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই ছিটমহল সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, খালেদা জিয়া এবারও পারলেন না শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে।  ভারতের সব রাজনৈতিক দল এক হয়ে এই চুক্তি পাস করেছে। এদিক থেকে তিনি ভারত থেকে শিখতে পারতেন। এতদিন তিনি কংগ্রেসের দালালি করে কিছু পাননি। এখন মোদীর দালালি করে কী পাবেন?
 
জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে খাটো করে খালেদা জিয়া যে বিবৃতি দিয়েছেন তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কারণ-মনে রাখতে হবে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা একা কেউ সমাধান করতে পারে না। দু’পক্ষকেই সমঝোতা করে সমাধান করতে হয়। তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে মোদী সরকারের যেমন কৃতিত্ব রয়েছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃতিত্ব তার চেয়েও বেশি। সেই দিক থেকে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন না জানিয়ে কেবলমাত্র মোদী সরকারের অভিনন্দন জানানো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। এর মাধ্যমে সরকারকে খাটো করা হয়েছে।
 
রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে বৈঠক ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহিম, এজাজ আহমেদ মুক্তা, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দপ্তর সম্পাদক এম সালাউদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ডা. এনামুল হক, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের  আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসকে শিকদার, বাসদের আহবায়ক রেজাউর রশিদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

বৈঠকে বৃটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকী, রুশনারা আলী ও রূপা হককে- দেশে এলে তাঁদেরও সংবর্ধনা দেবে ১৪ দল।