নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সিলেটে মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয় দাসকে হত্যা বাংলাদেশের ধর্ম ও বাকস্বাধীনতার প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহনশীলতার ভয়ংকর প্রবণতারই অংশ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি গত তিন মাসে ব্লগারদের ওপর তৃতীয় আঘাত।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেছেন, ‘এই ধরণের বিদ্বেষমূলক হামলা শুধু হামলার শিকার ব্যক্তিদের থামিয়ে দেয় না, বাংলাদেশের যেসব মানুষ ধর্মের বিষয়ে স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে তাদের কাছেও শীতল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।’
বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘এসব নৃশংস হামলার জন্য দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে বিবৃতিতে দিয়ে বলা উচিত, ধর্ম ও মত প্রকাশের ওপর হামলা সহ্য করা হবে না।’
ব্রাড অ্যাডামস দাবি করেছেন, ‘যখন কর্তৃপক্ষ শুধু নিজের মতামত প্রকাশের জন্য নাস্তিক বা ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের কারাগারে পাঠাচ্ছে, তার মানে এটা দাঁড়াচ্ছে যে, বাংলাদেশের রাস্তায় মানুষের ওপর যে হামলা চালানো হচ্ছে তাদের সাথে সরকার একমত। এটি সমাজে ভুল সংকেত প্রেরণ করছে। সরকার যে শান্তিপূর্ণ মতামত প্রকাশের সাথে আছে তা জানানো উচিত।’
বাংলাদেশের যেসব ব্লগার জঙ্গি গোষ্ঠীর আক্রমণের তালিকায় রয়েছে তাদের পুলিশি নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
মঙ্গলবার মুখোশধারীদের হামলায় নিহত হন সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক, মুক্তমনা লেখক-ব্লগার ও ব্যাংক কর্মকর্তা অনন্ত বিজয় দাশ (৩২)। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় এবং মার্চে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যা করা হয়।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্লগার রাজীব হায়দার হামলার শিকার হয়ে মারা যান। এর একমাস পরে একই ধরণের হামলায় ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন আহত হন।
