আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বর্ধিত ঋণ সহায়তার পুরো অর্থ মেলেনি। গত মার্চে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও অবশিষ্ট কিস্তির অর্থ ছাড়ে কোন তত্পরতা নেই। এমনকি, এই ঋণ পেতে নানা শর্ত পরিপালন করলেও অর্থ দিচ্ছে না আইএমএফ।
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, লেনদেন ভারসাম্য স্থির রাখতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে ১শ’ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে সরকার। চুক্তির শর্ত মোতাবেক দফায় দফায় বিদ্যুত-জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ শ্রম আইন তৈরি, সংশোধিত ভ্যাট আইন প্রণয়নসহ প্রায় সকল শর্ত পূরণ করা হয়। এমনকি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখেও ‘অযৌক্তিক’ ভ্যাট আইন করা হয়।
২০১২ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের জন্য বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ) হিসাবে ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ এসডিআর (প্রায় ১ বিলিয়ন) অনুমোদন করে আইএমএফ।
প্রতি কিস্তিতে ১৪ কোটি ১০ লাখ ডলার করে বাংলাদেশকে দেয়ার কথা ছিল। সবমিলিয়ে ৫ কিস্তি পাওয়ার পর তা আটকে যায়।
শেষ দুই কিস্তির অর্থছাড় না করলেও গত মার্চ মাসে ইসিএফ এর সময় পার হয়েছে। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত রডরিগো কুবেরোর নেতৃত্বে ইসিএফ এর পঞ্চম ও ষষ্ঠ পর্যালোচনা শেষ হয়।
সে সময় তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের সার্বিক কর্মকান্ডে তারা সন্তুষ্ট। সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও স্থিতিশীল ছিল। বাংলাদেশের ঋণমানও অনেক ভালো। তারপরও দুটি কিস্তির অর্থ (২৮০ কোটি ডলার) এখনও ছাড় করেনি সংস্থাটি। উল্টো এ কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে।
তবে ইতিপূর্বে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ইসিএফের মেয়াদ বাড়ানো হবে না। সর্বশেষ আইএমএফ বলছে, চুক্তির প্রভিশন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ১ এপ্রিল-২০১৫ এর পর আরো তিন মাস সময় বর্ধিত করা যাবে। আর কিস্তির অর্থ আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের আগে ছাড় করা সম্ভব নয় বলে সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে।
এবিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ইত্তেফাককে বলেন, আইএমএফ এর ঋণ পাওয়ার জন্য বড় শর্ত ছিলো ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন। সরকার এ আইন বাস্তবায়নে সঠিক ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এ ঋণ খুব সহজে পাওয়াই যৌক্তিক।
