অর্থসংস্থানের চাপ পড়বে এনবিআরে

আপডেট : ১৩ মে ২০১৫, ২৩:২৪

পে কমিশন বাস্তবায়ন হচ্ছে আগামী জুলাই থেকে। সরকারি চাকরিজীবী, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য বাহিনী এবং উন্নয়ন প্রকল্পে থাকা জনবলসহ প্রায় ২১ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা জাতীয় বেতন কাঠামোর অধীনে আসবে। তাতে বেতন-ভাতা বাড়িয়ে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে শুধু মূল বেতন বাবদ বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে এটি ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

 
আসছে অর্থবছরে কেবল মূল বেতন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। পরবর্তী বছরে এর সঙ্গে ভাতা যুক্ত হবে।
 
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রস্তুতি আগে থেকেই রয়েছে।
 
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যে উপায়েই বাস্তবায়ন করা হোক না কেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাজস্ব আদায়ে বাড়তি চাপ থাকবেই। এর মূল ভার নিতে হবে রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়টি মাথায় রেখে আগামী বাজেটে আয়করের আওতা বাড়ানোর টার্গেট রয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী বাড়ি ও গাড়ির মালিকদের আয়করের আওতায় আনা হতে পারে। সমপ্রতি অর্থমন্ত্রীও বলেছেন, যাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে তাদের উপর ট্যাক্স বসানো হবে। এর ফলে করের আওতার বাইরে থাকা অনেকেই করজালে ঢুকবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেকেই করের আওতায় আসবেন। অন্যদিকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমেও ভ্যাট আদায় বাাড়াতে চায় এনবিআর।
 
অর্থমন্ত্রী নিজেও সমপ্রতি এনবিআরের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে বাজেট নিয়ে আলোচনায় আয়করের আওতা বাড়ানো উপায় খুঁজতে বলেছেন বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে।
 

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম মনে করেন মূল বেতন বাস্তবায়নে ১৫ হাজার কোটি টাকা কম প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইত্তেফাককে তিনি বলেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের একটা রাজস্ব বরাদ্দ থাকে। এটি এনবিআরের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত না। তবে এর বাস্তবায়ন করতে গিয়ে রাজস্ব বোর্ডের উপর একটা চাপ থাকবে। এক্ষেত্রে সরকারের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম কমলেও সরকার দেশে কমাচ্ছে না। তাতে ভর্তুকির টাকা বেঁচে যাচ্ছে। ফলে বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে খুব সমস্যা হবে হবে না।