* আওয়ামী লীগ ও ভারত-বিরোধী রাজনীতির এখন আর খুব একটা প্রাসঙ্গিকতা নেই :অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন * পঁচাত্তর পরবর্তী ধারার রাজনীতিকদের অবশ্যই নতুন করে ভাবতে হবে :অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক * কিছু মৌলিক দ্বন্দ্বের টেনশনের কারণেই আরেকটি ধারার উদ্ভব হয়েছিল :অধ্যাপক আমেনা মোহসীন
ভারত ও আওয়ামী লীগ-বিরোধী মনোভাবকে পুঁজি করে পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে দেশে যে ভিন্নধারার রাজনীতির উত্থান ঘটেছিল, কালের পরিক্রমায় এবং এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতির গতিপ্রকৃতির পালাবদলে সেই রাজনীতির আবেদন এখন অনেকটাই ফুরিয়ে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার প্রেক্ষাপটের ওপর দাঁড়িয়ে রচিত এই ধারার রাজনীতি বলতে গেলে এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পতিত। ভারত ও আওয়ামী লীগ-বিরোধী মনোভাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত ও ধর্মাশ্রয়ী এই রাজনীতির আবেদন আর কতদিন থাকবে, সেই বিষয়ে রাজনীতি বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, পঁচাত্তর পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী রাজনীতির ঘাত-অভিঘাত নিয়ে এখন নতুন করে ভাবার সময় সমাগত।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতি বিশ্লেষকদের কারও কারও মতে, ইতিহাসের জঘন্যতম পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের আগের কিছু সময়ের পটভূমিকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ইস্যুতে নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্মের নির্মাণপর্ব শুরু হয়। এর প্রধান দুইটি হাতিয়ার ছিল- ভারত ও আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাব। এই হাতিয়ারকে শান দিতে তোলা হয় ‘বাঙালি’ না ‘বাংলাদেশি’-এই শ্লোগান। যেই শ্লোগানে বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির জনক’ না বলারও বার্তা নিহিত। এই প্লাটফর্মের ভিত শক্ত করতে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারেরও প্রচলন শুরু করা হয়েছিল। মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ার কারণে ধর্মের মিশ্রণ থাকায় এই রাজনীতি জনগণের একটি বৃহত্ অংশের কাছে আবেদন তৈরি করতেও সক্ষম হয়।
তবে দীর্ঘ ৪১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশের স্থলসীমান্ত বিল ভারতের লোকসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়ার পর পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতির অন্যতম হাতিয়ার ‘ভারত-বিরোধী মনোভাব’ এখন অনেকটাই ভোঁতা হয়ে পড়েছে। দীর্ঘকালের আরেক অমীমাংসিত বিষয়- তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ও এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আসন্ন ঢাকা সফরে এ সমস্যার সমাধান আসতে পারে।
গত ৭ মে রাজ্যসভায় এবং পরদিন লোকসভায় সীমান্ত বিল পাসের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের প্রতিক্রিয়া ছিল— ‘একাত্তরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যে উচ্চতায় উঠেছিল, এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক আবার সেই উচ্চতায় পৌঁছালো। রচিত হলো সহযোগিতা ও বন্ধুত্বর এক নতুন সংজ্ঞা।’ ৬ মে রাজ্যসভায় বিলটি পাসের সময় সিপিএমের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্যসহ অনেকেই বিলের ওপর বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এক অবাঙালি নির্দল সদস্য পরিষ্কার বাংলায় ‘শোনো, একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি...বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ’ গানটি গাইতে শুরু করেন। গাইতে গাইতে তিনি কেঁদে ফেলেন।
সুষমা স্বরাজের অভিব্যক্তি ও অবাঙালি ওই সদস্যের আবেগের সূত্র ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি বিশ্লেষকরাও বলছেন, পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতির ধারক-বাহকদেরও এখন নিজেদের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবতে হবে। তারা নিজেদের রাজনীতিকে টেকসই করতে হলে নতুন চিন্তা করতে হবে এই অঞ্চলের উদ্ভূত রাজনৈতিক পটভূমির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হলে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই রাজনীতির আবেদন রাখতে নবদর্শনের পথ ধরতে হবে। পাকিস্তানি ধারার ভারতবিরোধিতার বৃত্ত ভেঙ্গে দিয়ে কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের শর্তে প্রয়োজনে ভারতের বিরোধিতা করার বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক একটি শক্তিশালী ধারার প্রবর্তন করার কথাও ভাবার সময় এসেছে।
শুধু ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত জয়-ই নয়, বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে মিয়ানমারের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তিও পূর্ণতা পায়। ভারতের মতো বর্মি পার্লামেন্টও স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুসমর্থন করেছিল। শেখ হাসিনা এই পর্বে ক্ষমতায় এসে ভারত ও মিয়ানমার উভয়কে বুদ্ধিদীপ্ত কূটনীতিতে বিহ্বল করে দিয়ে জাতির জন্য অবিস্মরণীয় সমুদ্রজয় এনে দিয়েছেন। এরপর ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির অনুসমর্থনটাও সম্পন্ন করলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন মঙ্গলবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এখানে এখন আওয়ামী লীগ ও ভারত-বিরোধী রাজনীতির কোনো স্থান নেই। সেটি এই কারণে যে, আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতি তারাই করে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ও পাকিস্তানপন্থী। একটি বিরাট রাজনৈতিক শক্তির শুরু থেকে যে অবস্থান সেটি প্রমাণ করে ’৭৫ পরবর্তী রাজনীতি মূলত বাংলাদেশকে পাকিস্তানপন্থী করার রাজনীতি।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত বিল পাসের ফলে বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসম্পর্কের ভাগ্যবদল হয়েছে। এই প্রথম দেখলাম আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপিও এই বিল পাসকে স্বাগত জানিয়েছে। এতে এটাই প্রমাণ হয় যে, সাদামাটা বা অন্ধ আওয়ামী লীগ-ভারত বিরোধী রাজনীতির এখন খুব একটা প্রাসঙ্গিকতা নেই। যারা এতদিন এই ধারার রাজনীতি করে আসছে তারাও এখন এটি বুঝতে পেরেছে। তারা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করছেন, রাজনীতি হতে হবে বাংলাদেশপন্থী এবং গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাপন্থী।
রাজনীতির ত্রি-কালদর্শীরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের মাধ্যমে ’৭৫ পরবর্তী সময়ে অসুস্থ রাজনীতির যাত্রা শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এর চেহারায় ও প্রকৃতিতে এক বিশাল পরিবর্তন ঘটেছে। অগণতান্ত্রিক ও অরাজনৈতিক শাসকদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই ‘অসুস্থ’ রাজনীতির। সেনাশাসন থেকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের সিঁড়ি হিসাবে একাধিক রাজনৈতিক দলেরও জন্ম হয়েছে এদেশে।
পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর যে অভিঘাত, সেটি হলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর অরাজনৈতিক কর্তৃত্ব। সেই কর্তৃত্ব কখনো এসেছে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে, নীতি-নির্ধারকরা তাদের কথায়ই আস্থা রাখছেন, বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করছেন। জনগণ ও জনমত দুটোই উপেক্ষিত থাকছে। রাজনীতিকরাও ক্ষমতায় যেতে এবং থাকার জন্য দেশি-বিদেশি শক্তির কাছে ধরনা দিচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাইরের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ ১৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনীতির আরেক অভিঘাত হিসেবে চিহ্নিত। কেউ নিজেকে ভারতপন্থী, কেউ মার্কিনপন্থী, কেউ সৌদিআরব বা পাকিস্তানপন্থী প্রমাণের চেষ্টায় রত।
রাজনীতির ত্রি-কালদর্শীদের মতে, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী রাজনীতি ছিল দেশকে প্রগতির পথে, গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়ার; তখন যারা বিরোধী দলে ছিলেন, তাদের আক্ষেপ ছিল মুজিব কেন খাঁটি সমাজতান্ত্রিক হলেন না? পঁচাত্তরের আগে অর্থমূল্যে রাজনীতি কেনাবেচা কিংবা দলবদল, দল ভাঙ্গন বা গঠনের মহড়া চলেনি। দিনে বিরোধী দল এবং রাতে সরকারি দলের ভূমিকা তখনকার রাজনীতিতে ছিল না। রাজনীতি ক্রমশ ডানে ঝুঁকতে ঝুঁকতে এখন আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ বিরোধীদের আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমানে রাজনীতিতে যে নীতি ও আদর্শের মহামারি, রুচিহীনতা ও গালাগালের প্রতিযোগিতা চলছে, সেটিও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের-ই অভিঘাত। পঁচাত্তর-পরবর্তী শাসকেরা আরেকটি কাজ সুচারুভাবে করেছেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন; তাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর আসনেও বসিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিকে আওয়ামী লীগ বিরোধীরা সবসময়ই ‘গোলামীর চুক্তি’ বলে এসেছে। ভারতের সঙ্গে চার দশক ধরে ঝুলে থাকা সীমান্ত সমস্যার সমাধান মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির সফলতাই তুলে ধরছে। পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় আসে, তারা এই সীমান্ত চুক্তি র্যাটিফাই করতে হবে, তা বলার সাহসই পায়নি। জাতিসংঘে গেছে। কিন্তু তা আটকে ছিল ভারতের দিকে। কারণ, ভূমি ছাড়তে হলে ভারতের সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। গত ৭ মে ভারতের লোকসভায় সীমান্ত বিল পাস হওয়ায় এখন বাস্তবতা হলো এটিকে যারা গোলামী চুক্তি বলেছিলেন, তাদের বক্তব্য ছিল নিতান্তই যুক্তিহীন।
এছাড়া দক্ষিণ চীন সমুদ্রকে ঘিরে চীনের সঙ্গে জাপান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনের সম্পর্ক যখন খাবি খাচ্ছে, ভারত নিজেও ভূখণ্ডগত বিরোধে পীড়িত, তখন বাংলাদেশ— বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে ভূখণ্ডগত বিরোধমুক্ত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়ে সৃষ্টি করল নতুন ইতিহাস। সবার অলক্ষ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদনির্ভর দ্বিজাতি তত্ত্বও ভুল প্রমাণিত হলো। কারণ, ভারত তার বৃহত্ প্রতিবেশি চীন ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান ছাড়াও নেপালের সঙ্গে ভূখণ্ডগত বিরোধ মেটাতে পারেনি। ইরাক-ইরান সীমান্ত নিয়েই দশক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করেছে। কিন্তু হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশির সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে ভূখণ্ডগত বিরোধের নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হলো।
সীমান্ত বিল পাস এবং পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতির বর্তমান সঙ্কট সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক মঙ্গলবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘যেসব সেন্টিমেন্টকে ভিত্তি ধরে পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতি গড়ে উঠেছে, সেই রাজনীতির সময় শেষ হয়ে এসেছে। জনগণের কাছেও এখন ভারত-বিরোধী রাজনীতির তেমন কোনো আবেদন নেই। তবে একথা সত্য, গ্রামে-গঞ্জে বহু শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মানুষের মধ্যে এখনও আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাব রয়েছে। তারা নতুন চিন্তার নতুন রাজনৈতিক শক্তি বা দল দেখতে চায়। কারণ শুধু আওয়ামী লীগ বা ভারত-বিরোধিতা দিয়ে আর দল চলবে না। যারা এই ধারার রাজনীতি করছেন তাদেরকে অবশ্যই জাতির সামনে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন চিন্তা নিয়ে হাজির হতে হবে। পাশাপাশি এটিও ঠিক, আওয়ামী লীগ যদি তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে অসন্তোষ গাঢ় করে তোলে, তাহলে নতুন শক্তির উত্থান হবেই।’
তবে পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতির দিন শেষ হয়ে এসেছে এই চিন্তার পোষণকারীদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মোহসীন ইত্তেফাককে বলেন, “আমি বিষয়টিকে সরলীকরণ করে সরাসরি ভারত বা আওয়ামী লীগ-বিরোধী রাজনীতি বলতে চাই না। আমি আমার ‘পলিটিকস অব ন্যাশনালিজম’ বইয়েও বলেছি যে, পঁচাত্তরের আগের বেশকিছু কাল ধরে কিছু মৌলিক ইস্যুতে ভারত একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল। সেখানে রাজনৈতিক মতাদর্শের কিছু দ্বন্দ্ব ছিল। যা কিছুই ঘটেছে তা ছিল এই দ্বন্দ্বগুলোরই টেনশন। ভারত-বিরোধিতার জন্য নয়, পৃথক রাজনৈতিক প্লাটফর্মের উদ্ভব ঘটেছিল নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এই স্বতন্ত্র অবস্থান নিয়ে হয়তো বিতর্ক হতে পারে। ‘বাঙালি’ না ‘বাংলাদেশি’-এসব নিয়ে দ্বন্দ্ব নেই। সাংবিধানিকভাবেই আমি জাতিগত হিসেবে একজন বাঙালি, নাগরিক হিসেবে একজন বাংলাদেশি। পাশাপাশি আমি একটি ধর্মেও বিশ্বাসী। আর এটিই হচ্ছে বাংলাদেশি বা বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলমন্ত্র। কাজেই পঁচাত্তর পরবর্তী রাজনীতির দিন শেষ, একথা বলার মতো সময় এখনও আসেনি।”