ভালোবাসার বিশ বছর

আপডেট : ১৪ মে ২০১৫, ১২:৪৩
 
‘ভালোবাসার বিশ বছর’ সফল তারকা দম্পতি ওমর সানী-মৌসুমী অভিনীত একটি বিশেষ টেলিফিল্ম। মূলত তাদের দু’জনের দাম্পত্য জীবনের টুকরো টুকরো গল্প নিয়েই এই টেলিফিল্মের গল্প আবর্তিত হয়েছে। এটি নির্মাণ করেছেন ইউসুফ চৌধুরী। ওমর সানী-মৌসুমীর দাম্পত্য জীবনের বিশ বছর এবং ‘ভালোবাসার বিশ বছর’ নিয়ে লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন
 
গেল সপ্তাহজুড়ে আমাদের মিডিয়ায় আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ওমর সানী-মৌসুমীর ‘ভালোবাসার বিশ বছর’। কারণ আমাদের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সফল তারকা দম্পতির প্রায় বিশ বছরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে এর আগে কখনোই কোনো বিশেষ টেলিফিল্ম নির্মিত হয়নি। সেদিক বিবেচনায় তারা ‘ভালোবাসার বিশ বছর’ টেলিফিল্মে অভিনয় করে বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তাদেরই পরিকল্পনা অনুযায়ী টেলিফিল্মের গল্প রচনা করেছেন সাংবাদিক-নাট্যকার গোলাম রাব্বানী। এটি নির্মাণ করেছেন ইউসুফ চৌধুরী। গত সপ্তাহে রাজধানীর প্রিয়াঙ্কা শুটিং হাউজে টেলিফিল্মটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী ভালোবেসে চিত্রনায়ক ওমর সানীকে বিয়ে করেছিলেন ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট। দেখতে দেখতে সংসার জীবনের বিশ বছরে পা দিতে যাচ্ছেন দর্শকপ্রিয় এই সফল দম্পতি। গত ৬ মে চিত্রনায়ক ওমর সানীর জন্মদিনে টেলিফিল্মটির শুটিং শুরু হয়। নিজেদের জীবনের গল্প নিয়ে নির্মাণ চলতি এই টেলিফিল্মটি নিয়ে ওমর সানী এবং মৌসুমীর মধ্যে শুটিং স্পটে এক অন্যরকম সুখ লক্ষ করা যায়। শুটিংয়ের প্রথমদিন সানীর জন্মদিন হওয়ায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম থেকে আসা সাংবাদিকদের সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিশেষভাবে সময় দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সানী ও মৌসুমী। ওমর সানী বলেন, ‘নিজেদের জীবনের গল্প নিয়ে এমন একটি টেলিফিল্মে কাজ করতে পারার সুখ সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ধন্যবাদ গোলাম রাব্বানীকে চমত্কারভাবে নাট্যরূপ দেওয়ার জন্য। আমার সহধর্মিনী মৌসুমীর সহযোগিতা না থাকলে ‘ভালোবাসার বিশ বছর’ নির্মাণ সম্ভব হয়ে উঠত না। তাই তার প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’ আর মৌসুমী বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সুখে দুঃখে একসঙ্গে প্রায় বিশটি বছর পার করেছি। আমাদের দু’ সন্তান ফারদিন এবং ফাইজাকে মানুষের মতো মানুষ করার চেষ্টা করছি। নিজেদের জীবনের কিছুটা গল্প দর্শকের জন্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি ‘ভালোবাসার বিশ বছর’-এ। আশা করি ভালো লাগবে দর্শকদের।’ পরিচালক ইউসুফ চৌধুরী জানান আসছে ঈদে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেল টেলিফিল্মটি প্রচার হবে। এদিকে ‘ভালোবাসার বিশ বছর’ টেলিফিল্ম প্রসঙ্গে ওমর সানী আরও জানান, এটিই হচ্ছে তাদের একসঙ্গে করা চলতি বছরের একমাত্র ছোট পর্দার কাজ। ওমর সানী-মৌসুমী জুটির প্রথম চলচ্চিত্রে ছিল ‘দোলা’। এটি ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়। এরপর একই জুটি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে ‘আত্ম অহংকার’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘মুক্তির সংগ্রাম’, ‘হারানো প্রেম’, ‘গরীবের রানী’, ‘প্রিয় তুমি’, ‘সুখের স্বর্গ’, ‘মিথ্যা অহংকার’, ‘ঘাত প্রতিঘাত’, ‘লজ্জা’, ‘কথা দাও’ ‘স্নেহের বাঁধন’ ইত্যাদি। তাদের মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ চলচ্চিত্র হচ্ছে শাহীন সুমনের ‘সাহেব নামে গোলাম’। এটি ২০০৯ সালে মুক্তি পায়। সাত বছর পর আবারও তারা জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন বেলাল আহমেদের নির্দেশনায় ‘ভালোবাসবই তো’ চলচ্চিত্রে। এটি অতিসম্প্রতি সেন্সর সনদপত্র লাভ করেছে। এদিকে মৌসুমী এরইমধ্যে তার নিজের নির্দেশনায় নির্মিত ‘শূন্য হূদয়’-এর কাজ শেষ করেছেন। এ ছাড়া মৌসুমী শেষ করেছেন মুশফিকুর রহমান গুলজারের নির্দেশনায় ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ চলচ্চিত্রের কাজ। খুব শিগগিরই তিনি শেষ করবেন গোলাম মোস্তফা শিমুলের ‘লিডার’ চলচ্চিত্রের কাজ। ওমর সানী আবারও চলচ্চিত্রে নিয়মিত হয়ে উঠেছেন। তিনি শেষ করেছেন সাফি উদ্দিন সাফির ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী-টু’, মঈন বিশ্বাসের ‘মারছক্কা’, ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘আজব প্রেম’ ও শাহীন সুমনের ‘মিয়া বিবি রাজি’ চলচ্চিত্রের কাজ। সম্প্রতি মৌসুমী চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া’ ও ‘এসকে মুভিজ’ প্রযোজিত দুই বাংলার চলচ্চিত্র আবদুল আজিজ ও অশোক পতি পরিচালিত ‘প্রেমী ও প্রেমী’তে অভিনয়ের জন্য। এতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করবেন। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘প্রেমী ও প্রেমী’র গল্প পড়ে ভালো লেগেছে আমার। আমার চরিত্রটি ছোট হলেও খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই কাজটি করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছি। জাজের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। তাছাড়া আশা করছি ‘প্রেমী ও প্রেমী’ ভালো একটি চলচ্চিত্র হবে। তাই একটি ভালো চলচ্চিত্রের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতেও চলচ্চিত্রটিতে কাজ করছি।’