বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবই একমাত্র দল, যারা এখনও কোনো ম্যাচ হারেনি। ১১ দলের লড়াইয়ে বাকি দশ দলই অন্তত দুটি ম্যাচ হলেও হেরেছে। ব্যতিক্রম শুধু লিগের বর্তমান শেখ জামাল। লিগের প্রথম পর্বে নিজেদের ম্যাচে আজ শেখ জামালের লড়াই আবাহনীর বিরুদ্ধে। কাগজে কলমে এই দুই দলের লড়াই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে পারে। কিন্তু সেটা নির্ভর করে আবাহনীর উপর। আবাহনী কতোটা পারফরম্যান্স দেখাতে পারে সেদিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
বার্সেলোর পুরোভাগের শক্তিতে যেমন নেইমার, সুয়ারেজ, মেসি রয়েছেন। তেমনি শেখ জামালের আক্রমণভাগে আছেন এমেকা ডার্লিংটন, ওয়েডসন এবং ল্যাডিং ডারবো। এই তিন জনই শেখ জামালের জয়ের তরি ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। যেদিন এই তিনজন ফ্লপ করেন, সেদিন আর জামালের ফুটবল আকাশে সূর্য দেখা যায় না। ব্রাদার্স এবং মোহামেডানের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচ ড্র করায় কালো মেঘ ভর করেছিল। এই নিয়ে অনেক কথাও শুনতে হয়েছিল মামুনুল, নাসির, সোহেল রানা, জামাল ভুইয়া, ইয়ামিন মুন্না, রায়হানদের। কোচ মারুফুল হকও বাদ জাননি কথা সমালোচনা থেকে। ক্লাব কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের শুনিয়ে বলেছিলেন, ‘এতো টাকা দিয়ে খেলোয়াড় রেখে লাভ কি।’ কানে পৌঁছানোয় কষ্ট পেয়েছিলেন খেলোয়াড়রা। উদাহরণ টেনে তারাও বলছিলেন চেলসি, বায়ার্ন মিউনিখ, বার্সেলোনা হারে না? একটা সময় তো খারাপ যেতেই পারে। হতাশ না হলে অধিনায়ক নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেছিলেন, ‘মাঝে মাঝে খারাপ হওয়া ভালো। তাহলে আরো ভালো খেলার তাগিটা জেগে উঠে। জয়ের স্বাদও অনুধাবন করা যায়।’
দুই ম্যাচ ড্র করায় শেখ জামালের যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই তুলনায় আবাহনী শিবিরে কী হওয়া উচিত। আবাহনী তো ২ ম্যাচ ড্র এবং ২ ম্যাচ হেরে শিরোপা জয়ের কোনো স্বপ্ন দেখার সাহসও পাচ্ছে না। অষ্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটান হতাশ হয়ে গেছেন। তার দল স্কোর করতে পারছে না। গোল মুখে গিয়ে নিজেদের হারিয়ে ফেলছেন ফরোয়ার্ড লাইনের খেলোয়াড়রা। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা ফরাশগঞ্জের মতো দলের বিরুদ্ধেও ড্র করেছে আবাহনী। আবাহনীর ফুটবলাররা বলছেন, গোল পাচ্ছে না দল। রেজাল্ট না পেলে সব কিছুই চোখে পড়ে। রেজাল্ট পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। শেখ জামালের বিরুদ্ধে আবাহনী ম্যাচ জিতলে সমর্থকদের জন্য হবে সেটা বড় সানা।
বার্সেলোনায় নেইমার, সুয়ারেজ, মেসিরা ফুটবল মাঠ শাসন করে যাচ্ছেন ঠিকই। তবে একথাও ঠিক এই তিন মহা তারকার উপস্থিতিতেই বার্সেলোনা মঙ্গলবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরেছে। ওয়েডসন, এমেকা ডার্লিংটন এবং ল্যান্ডিংদের উপস্থিতিতেও শেখ জামাল ধরাশায়ী হবে না সে কথা হলফ করে বলা যাবে না। দিনটা ভালো হলে আবাহনীও জ্বলে উঠতে পারে। আজকের ম্যাচে আবাহনীর কোনো ইনজুরি নেই। শেখ জামালের মোনায়েম খান রাজু লালকার্ডের কারণে নামতে পারবেন না। মামুনুল ইসলাম এখনও ইনজুরিতে, তিনিও বাইরে থাকছেন। আর চোটের কারণে অস্ত্রপচারের পর গোলকিপার সোহেল তো আগামী দুই মাসে নামতে পারবেন কিনা কে জানে। মানসিকভাবে এগিয়েই থাকবে আবাহনী। মাঠে কতটা আদায় করে নিতে পারে সেটাই এখন দেখার ব্যাপার।
আবাহনী শেখ জামাল ম্যাচ শুরু হবে পৌনে ৫টায়। চ্যানেল নাইন সরাসরি সম্প্রচার করবে।
পয়েন্ট টেবিল
ক্লাব খেলা জয় ড্র হার পয়েন্ট
শেখ জামাল ৯ ৭ ২ ০ ২৩
শেখ রাসেল ৮ ৫ ১ ২ ১৬
মুক্তিযোদ্ধা ৯ ৫ ১ ৩ ১৬
মোহামেডান ৮ ৪ ২ ২ ১৪
আবাহনী ৮ ৪ ২ ২ ১৪
ব্রাদার্স ৮ ৪ ২ ২ ১৪
রহমতগঞ্জ ৮ ২ ২ ৪ ৮
সকার ক্লাব ৮ ২ ২ ৪ ৮
চট্ট.আবাহনী ৮ ১ ২ ৫ ৫
ফরাশগঞ্জ ৮ ০ ৪ ৪ ৪
বিজেএমসি ৮ ০ ২ ৬ ২
