মেজর জেনারেল এম মঞ্জুর হত্যা মামলার তদন্তের সময় দফায় দফায় বাড়ছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি মামলার বিচার।
১৯ বছর মামলা চলার পর গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ফের পুনঃতদন্তের আদেশ দেন বিচারক হাসান মাহমুদ ফিরোজ। তবে সর্বশেষ রায়ের দিন ধার্য করেও রায় দিতে পারেননি বিচারক হোসনে আরা আকতার।
এর আগে বিচারককেই বদলি করে দেয়া হয় অন্য আদালতে। দায়িত্ব পান ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা জজ হাসান মাহমুদ ফিরোজ। কিন্তু তাকেও অন্যত্র বদলি করায় এ মামলার বিচারক বদল হয়েছে ২৩ বার।
বর্তমানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিচারক এস এম সাইফুল ইসলাম। বর্ধিত তদন্তের আদেশের পর এ নিয়ে ৬ দফা তদন্তের মেয়াদ বেড়েছে। বৃহস্পতিবারও সময় বর্ধিত করে ১৩ আগস্ট অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন এ বিচারক।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে নাজিম উদ্দিন রোডের বিশেষ এজলাসে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার বিচার চলছে।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খন্দকার আসাদুজ্জামান রচি তদন্ত শেষ করতে আরো সময়ের আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা আমেরিকায় গিয়ে জেনারেল মঞ্জুর স্ত্রীর বক্তব্য গ্রহণের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মঞ্জুর স্ত্রী আইনজীবীর মাধ্যমে বক্তব্য দিতে চেয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি। এ জন্য তদন্ত শেষ করতে সময় প্রয়োজন। পরে আদালত সময় মঞ্জুর করে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছেন ।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে একদল সেনার গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনার পর পুলিশের হাতে আটক হন জেনারেল মঞ্জুর। পুলিশ হেফাজত থেকে ১ জুন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নেয়ার পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ওই হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মঞ্জুরের ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর আহমেদ। ওই বছরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তখনকার সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ অভিযোগপত্র দেন এবং বিচার শুরু করে আদালত। তবে সরকার বদল এবং দফায় দফায় রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনে মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে আসতে ১৮ বছর সময় লেগে যায়।
এ মামলায় ৪৯ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালের ২ অক্টোবর আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এরশাদ।
