শ্রেণিকক্ষের সংকট, বারান্দায় পাঠদান

আপডেট : ১৫ মে ২০১৫, ১১:৩৮



ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার খামার সেনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় বারান্দায় পাঠদান করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, টিনশেড একটি ভবনের সামনের বারান্দায় চলছে একাধিক শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম। ভবনের পিলারগুলোর ইট-সুরকির ঢালাই খসে পড়ে ভেতরের রড দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি পিলার সংস্কারের পরও ফাটল ধরেছে। ভেতরের ফাঁকা কক্ষগুলোর দেয়ালের অনেক স্থানে পলেস্তরা খসে পড়ছে। ওপরের সিলিং ও টিনের চালও জরাজীর্ণ।

বিদ্যালয়ের ২টি ভবনের ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটিতে ফাটল ধরায় ঐ ভবনের বারান্দায় গাদাগাদি করে ১ম, ২য়, ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যালয়টি ১৯২৫ সালে স্থাপিত। পুরোনো ভবনটি একাধিকবার সংস্কার করা হলেও এখন অবস্থা একেবারেই নাজুক। একে একে চারপাশের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ায় এবং টিনের চালা ও সিলিং ভেঙে পড়ার কারণে ভবনটি ব্যবহার-অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ২৫ এপ্রিলের ভূমিকম্পে বিদ্যালয়টির ৪টি শ্রেণীকক্ষে ফাটল দেখা দেওয়ায়,২৬ এপ্রিল বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে ঐ শ্রেণিকক্ষগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বাইরে ক্লাস নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ।

এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, ‘বিদ্যালয় ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। শুনেছি পরিত্যক্তও ঘোষণা করা হয়েছে সরকারিভাবে। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ আদৌ নেওয়া হয়নি। এই অবস্থায় সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আমরা নিজেরাও আতঙ্কের মধ্যে থাকি।’

শিক্ষার্থী জেবা রেজওয়ানা জানায়, বারান্দায় গাদাগাদি করে একসাথে ক্লাস করায় কোন পড়া বুঝতে পারছি না। একই কথা বলল ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী সোয়াব আলী। সে আরও বলে, কক্ষগুলো তাড়াতাড়ি মেরামত করা হলে আমরা ভালোভাবে ক্লাস করতে পারবো। শিক্ষার্থী আতিকা সুলতানা জানায়,বারান্দায় বসার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই বইপত্র ভিজে যায় এবং ক্লাস নিতে পারে না স্যারেরা।

অভিভাবক মোস্তফা আলম বলেন, পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় ক্লাস নেওয়ার ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো জরুরিভাবে মেরামত করা উচিত।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার বলেন, বারান্দায় ক্লাস নেওয়ার সময় বাচ্চারা অমনোযোগী হয়। দ্বিতীয় শ্রেণির ছেলে-মেয়েরা কথা শুনলেও শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কথা শুনতে চায় না। তা ছাড়া বর্ষায়, রোদে, ঠান্ডায় সব সময়ই বিড়ম্বনায় পড়তে  হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জুয়েল বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে ইউএনও স্যার অবহিত আছে। তাছাড়া স্থানীয়দের উদ্যেগে অন্যের একটি জমিতে অস্থায়ীভাবে টিনশেড একটি রুম তৈরী করে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ২৫ এপ্রিলের ভুমিকম্পে ১৩টি স্কুলের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে । সে সকল স্কুলের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে । অনুদান এলে মেরামত করা হবে।