সিলেটে লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে (৩২) প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার চার দিন পরও ঘাতকদের হদিস পায়নি পুলিশ। দেশ-বিদেশে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক তত্পরতা শুরু করলেও খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এখনো সম্ভব হয়নি।
এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। থানার ওসি গৌসুল হোসেন গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, কোন আসামি এখনো ধরা সম্ভব হয়নি। তবে মামলার তদন্তকাজ এগিয়ে চলছে।
খুনের ধরন ও খুনিদের আচরণ প্রসঙ্গে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা বিশ্লেষণে মনে হয় খুনিরা চরমপন্থি ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। জঙ্গি মানসিকতা নিয়েই তারা তাদের টার্গেট করা ব্যক্তিকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে খুন করেছে। এরপর বেপরোয়াভাবে চলে গেছে। অনন্তের পরিবারের বক্তব্য, তার ব্যক্তিগত সাদামাটা জীবনযাপন ও খুনের ধরন দেখে এটা প্রায় পরিষ্কার যে, বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবাদী লেখালেখির কারণে ধর্মান্ধ জঙ্গিরাই তাকে খুন করেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অনন্ত হত্যাকাণ্ডের সময় তার বাসার বারান্দায় কাপড় শুকাতে দিচ্ছিলেন। চিত্কার শুনে তিনি চেয়ে দেখেন চার যুবক একজনকে ঘিরে ধরে দা দিয়ে কোপাচ্ছে। পরে তারা বোতল বের করে পানি খেয়ে হেঁটে হেঁটে চলে যায়।
গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশ
গণজাগরণ মঞ্চ সিলেটের অন্যতম সংগঠক, ব্লগার-লেখক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যার প্রতিবাদে ও খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল বিকালে সংহতি সমাবেশ করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের সিলেটের মুখপাত্র দেবাশীষ দেবু। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সত্য ও যুক্তিনির্ভর কথা বলার কারণেই বাঁচতে পারলেন না অনন্ত। বক্তারা অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
