খুনের রাজনীতি আর চলবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ মে ২০১৫, ১৪:১৪
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতকে ধ্বংস-খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতির ধারক-বাহক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, বাংলাদেশে খুন, নাশকতা ও ধ্বংসের রাজনীতি চলবে না। দেশ ধ্বংসের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতরাও বিচারের হাত থেকে রেহাই পাবে না, তাদের কোন ক্ষমা নেই।
 
শনিবার বিকালে রাজধানীর উত্তরের সীমান্তঘেষা জেলা শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকার কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
 
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, দেশের সম্পদ ধ্বংস করে- তাদের দল আর নয়, তাদের ভোট বা সমর্থন দিবেন না। তাদেরকে ‘না’ বলুন, পরিহার করুন। দেশের উন্নয়ন, প্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আওয়ামী লীগের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হোন। ধ্বংসের রাজনীতি পরিহার করে উন্নয়নের রাজনীতিতে সামিল হোন।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ৩৫ মিনিটের বক্তব্যে বিএনপি-জামায়াত জোটের ৯২ দিন ব্যাপী ধ্বংসযজ্ঞ, ভয়াল সন্ত্রাসের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি অবহেলিত সীমান্তবর্তী এ জেলার সার্বিক উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতির কথাও ব্যক্ত করেন।
 
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও প্রগতি। তাই আগামীতেও ‘নৌকা’ মার্কায় সমর্থনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
 
দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত দেশ ও মানবতার শত্রু। যারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, দেশের সম্পদ বিনষ্ট করেছে তাদের ক্ষমা নেই। তাদের ধরিয়ে দিন। তদের উপযুক্ত শিক্ষা ও শাস্তি দেয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করার আর কেউ কোন সাহস না পায়।
 
খুনিরা কোন ভোট পেতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই দেশ ধ্বংস হয়। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর পর ভারতের পার্লামেন্টে বিলটি পাস হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বড় সফলতা। শুধু এই চূক্তিই নয়, ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি চূক্তির মাধ্যমে আমরা ভারত থেকে পানির হিস্যাও আদায় করেছি। ভারত ছাড়াও মায়ানমারের কাছ থেকে আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। কিন্তু বিএনপি পারে না কেন? অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে এসব কিছুই করতে পারেনি।
 
তিনি বলেন, বিএনপি মুখে ভারত বিরোধীতা করলেও ক্ষমতায় থাকতে সেদেশের তোষামোদি, চাটুকারি করে। এটাই তাদের চরিত্র। গঙ্গা পানি বণ্ঠন চুক্তি বাস্তবায়ন এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারত থেকে ৬৪ হাজার শরনার্থী ফিরিয়ে আনার সফলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।