গত এক সপ্তাহে সিলেট নগরীতে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। পরপর খুনের ঘটনায় নগরীতে চাপা আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। যদিও এই তিনটি খুনের ঘটনা একটি আরেকটির সাথে সম্পর্ক যুক্ত নয়। তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
ইব্রাহিম আবু খলিল (৫৫) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ তারই শয়ন কক্ষ থেকে সোমবার সকালে উদ্ধার হলে সর্বত্র আতঙ্ক-উদ্বেগ দেখা দেয়।
গত ১২ মে অনন্ত বিজয় দাস নামের এক ব্লগারকে শহরের বনকলাপাড়ায় তারই বাসার কয়েক গজ দূরে প্রকাশ্য দিবালোকে খুনিরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। তারা ধরা পড়েনি চিহ্নিতও হয়নি আজো। এই ঘটনার চারদিন পর ১৬ মে রাতে এক পরিচ্ছন্ন কর্মী শিকন্দর লালকে (৩০) খুন করে মাদক সেবীরা। পরের দিন চার মাদক সেবীর বিরুদ্ধে মামলা হয় থানায়।
এদের রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই এর এক দিন পরই সিলেট নগরীর সওদাগর টুলায় তাবলীগ জামায়াতের এক কর্মী খুন হয়েছেন তারই শয়ন কক্ষে। ইব্রাহিম আবু খলিল (৫৫) এর গলাকাটা লাশ সোমবার সকালে পুলিশ উদ্ধার করে। খবরটি সঙ্গে সঙ্গে চাউর হলে নগরবাসী হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) রহমত উল্যা দুপুরে ইত্তেফাককে জানান, নিহত খলিলের গলায় এবং পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার হাত-পা বাঁধা ছিল। রবিবার রাতের কোন এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা। গলাকাটা লাশ উদ্ধারের পর সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের প্রথম স্ত্রী ও তার এক ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, ইব্রাহিম আবু খলিল তিনটি বিয়ে করেছেন। সূত্র জানায়, গত দুইদিন আগে তিনি তাবলীগ শেষে ভারত থেকে দেশে ফিরেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, রবিবার দিবাগত রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন ইব্রাহিম। সোমবার সকালে তার ঘরের দরজা খোলা পাওয়া যায়। এ সময় ঘরের খাটের নীচে হাত বাঁধা ও গলা কাটা অবস্থায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখের উপর একটি বালিশ চাপা দেয়া ছিল।
খবর পেয়ে সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। পরে সিআইডির ক্রাইমসিন টিমের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসে আলামত সংগ্রহ করেন।
এদিকে, ইব্রাহীম খলিলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাবলীগ জামায়াতের শতশত কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় ধোপাদিঘীরপাড় জামে মসজিদে তার মাগফেরাত কামনা করে তাৎক্ষণিক এক খতমে কুরআন, দোয়া মাহফিল করেন। নিহত ইব্রাহিম ধোপাদিঘীরপার এলাকায় তাবলীগ জামায়াতের আমীর ছিলেন।
নিহতের ছেলে সাজিদ জানান, ঘাতকরা তার ঘরে থাকা ল্যাপটপ ও কিছু স্বর্ণ নিয়ে গেছে।
