যানজটের কাছে হার মানল অটোসিগন্যাল

আপডেট : ১৯ মে ২০১৫, ০০:০৮
রাজধানীতে যানজটের কাছে হার মানল পরীক্ষামূলক অটোসিগন্যাল বাতি। চালু করার তিন দিনের মাথায় সোমবার  সকালে তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। 
 
যানজট নিরসনে গত শুক্রবার থেকে নগরীর কাকলী (বনানী) থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত ১১টি পয়েন্টে কার্যক্রম শুরু করে মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। কিন্তু প্রথম দুই দিন শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন থাকায় যানজটে কোন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু রবিবার থেকে অটোসিগন্যাল ব্যবস্থা  যানজটে মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাব পড়ে গোটা রাজধানীতে। সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়েই যানজটে নাকাল হয়েছে নগরবাসী। ফার্মগেট, পান্থপথ, শাহবাগ, মহাখালী, ধানমন্ডিসহ আশপাশ এলাকায় যানজটে প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে সকালেই  ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে বন্ধ করা হয় অটোসিগ্যাল বাতির কার্যক্রম।
 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ( ট্রাফিক) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, অটোসিগন্যাল চালু করা ছিল পরীক্ষামূলক। চালুর প্রথম দুই দিন শুক্র ও শনিবার তেমন সমস্যা হয়নি। রবিবার সকাল থেকেই চিত্র পাল্টে যায়। অটোসিগ্যাল বাতির মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ঢাকা শহর স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণে কমিশনার সাহেবের নির্দেশে অটোসিগন্যালি বাতির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
 
তিনি বলেন, অটোসিগন্যাল বাতি  নিয়ন্ত্রন করছে সিটি কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। অটোসিগন্যাল পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করার পর তারা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন ও সময় নির্ধারণ চেষ্টা করেছে। এ কাজে ট্রাফিক পুলিশও তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। কিন্তু বিভিন্ন পয়েন্টে টাইমিং কমানো বা বাড়ানো চেষ্টা করা হলেও তা কোন কাজে আসেনি। তবে এ নিয়ে আরো পরীক্ষা নিরিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে । 
 
তিনি আরো বলেন, সকাল ৯টার পর থেকে অটোসিগন্যাল বাতির বদলে আগের মতোই ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে বাঁশি আর হাত নেড়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
রাজধানীর যানজট নিরসনের অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০০১-০২ অর্থবছরে গৃহীত ‘ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের’ আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশন এলাকার ৩০টি এবং দক্ষিণের ৪০টি মোট ৭০ স্থানে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে অটোট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়। এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০০৪ সালের শেষ দিকে।
 
এর মধ্যে আটটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। আরও ৩০টি পয়েন্টে স্থাপন করা হচ্ছে অটোট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। ঐ বছরের ২২ নভেম্বর পরীক্ষামূলক ভাবে অটোসিগন্যাল (ডিজিটাল) চালু করা হয়েছিল। ট্রাফিক পুলিশ সবুজ, হলুদ ও লাল বাতির মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। চালকদের মধ্যেও এ সিগন্যাল পদ্ধতি মানার অভ্যাস গড়ে উঠছিল। কিন্তু কিছুদিন পর তা আবার শিথিল হয়ে যায়। রাজধানীর যানজট নিরসন পুরনো অবস্থায় ফিরে আসে।