জাতীয় দলের ফুটবলারদের রিপোর্ট করার কথা ছিল দুপুর ১২টায়। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেননি। তাই রুষ্ট বাফুফে চটেছে খেলোয়াড়দের উপর, চাপিয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। সময় জ্ঞানের ব্যাপারে সজাগ হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জানিয়ে দেয়া হয়েছে আগামী দিনে এমন কিছু প্রত্যাশা করে না বাফুফে।
খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শৃংখলা আশা করছে, যারা দেরিতে এসেও এসব কথা শুনতে পারেনি তারা যেন অন্য খেলোয়াড়দের কাছ থেকে জেনে নেয়, বাফুফে থেকে সে নির্দেশও দেয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের। দেরিতে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি। আর জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম রেল পথে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বাফুফে ভবনে পৌঁছে দেখেন ততক্ষনে খেলোয়াড়রা বেরিয়ে যাচ্ছিলেন।
রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ ফুটবল বাছাই পর্বে বাংলাদেশকে আট ম্যাচ খেলতে হবে। আগামী ১১ জুন কিরগিজস্তান এবং ১৬ জুন তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ হবে ঢাকায়। এই দুই ম্যাচ উপলক্ষ্যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সেটা হবে ৩০ মে সিঙ্গাপুর এবং ২ জুন আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। এ জন্য ৩২ জনের জাতীয় প্রাথমিক দল ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে চার জন আসেননি। জামাল ভুইয়া এবং ইয়াসিন আহমেদ ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু। জাহিদ অসুস্থ, নাসির চৌধুরীর বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাদবাকি সবাই রিপোর্ট করেছেন। প্রথম ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ২৩ জন খেলোয়াড় রাখা হবে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন করে ২৩ জন ঘোষণা করা হবে।
জাতীয় দলে ডাক পাওয়া শুধু শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের খেলোয়াড়দের নিয়ে গতকাল অনুশীলন শুরু করেছেন গোলকিপিং কোচ ক্রিশ্চিয়ান সোয়েচলার। অন্যান্য ক্লাবের খেলোয়াড়রা লিগের ম্যাচ খেলতে ক্লাবে চলে গেছেন। নিজ নিজ দলের ম্যাচ শেষ হলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ থেকে সোজা বাফুফে ভবনে চলে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ ২১ মে ঢাকায় আসবেন। তখন নির্ধারণ হবে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ঢাকায় হবে নাকি বাইরে যাবেন খেলোয়াড়রা।
শৃংখলা মেনে চলার নির্দেশ বুঝে উঠার আগেই খেলোয়াড়দের আরো কড়া বার্তা দিয়েছেন গোলকিপিং কোচ ক্রিশ্চিয়ান শোয়েচলার। পিনপতন নিরব সম্মেলন কক্ষে এমিলি, এনামুল, জুয়েল রানা, রায়হান, কেষ্ট, ইয়ামিন মুন্নারা ক্রিশ্চিয়ানের কথা শুনছিলেন। ক্রিশ্চিয়ান বলছিলেন,‘তুমি যদি খেলতে চাও নিজেকে তুলে ধরো। নিজেকে বাফুফের কাছে তুলে ধরো। দর্শকের কাছে তুলো ধরো। এটাই একজন খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমাদের ক্যাম্পে কোনো অপেশাদারিত্ব চলবে না। প্রত্যেকটি খেলোয়াড়কে পেশাদার হতে হবে।’ খেলোয়াড়রা ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকেই রাত জেগে ঘুম নষ্ট করেন। পরদিন মাঠে গিয়ে ক্লান্তিতে ভোগেন। সেটা জানা আছে এই জার্মানির। ক্রিশ্চিয়ান শোয়েচলার পরিস্কার ভাষায় খেলেয়াড়দের বলে দিয়েছেন নো ফেসবুক, নো ফটো আপলোড। খাওয়া, ঘুম এবং অনুশীলনই একমাত্র কাজ। আমি আবার বলছি খাওয়া, ঘুম আর আনুশীলনই একমাত্র কাজ। ক্লাবে যা করো তা জাতীয় দলের ক্যাম্পে করা যাবে না। কথা, কাজ, খেলা, আচরণে পেশাদার হতে হবে। আমি কিছু খেলোয়াড়কে চিনি যারা বড় মনের। দেশকে কিছু দিতে চায়। অনেক কিছু মেনে চলে। তোমাদেরকেও দেশের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে।’
