সব বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ মে ২০১৫, ২৩:৩২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যত বাধাই আসুক, সব বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। বিশ্বে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 
গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) ১৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার শান্তি, অগ্রগতি ও সৃষ্টি চায়। সংঘাত, পিছিয়ে যাওয়া এবং ধ্বংস চায় না। আর সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিহার করে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে বিএনপি-জামায়াতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
 
প্রধানমন্ত্রী দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে তার সরকারের সময়কার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দেশের ৯৯ শতাংশ এলাকা মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। দেশে ৩-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। ৪-জি প্রযুক্তিও অচিরেই চালু করা হবে। ২০১৭ সালের মধ্যেই ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ স্থাপন সম্ভব হবে। যা দেশের টেলিযোগাযোগসহ তথ্য-প্রযুক্তি খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসবে। উন্নত বিশ্বে যত আধুনিক প্রযুক্তি আসবে বাংলদেশ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।
 
টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তির সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে অবকাঠামো উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সময় মোবাইল ও ল্যান্ডফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি; যা এখন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় সাড়ে বারো কোটিতে পৌঁছেছে। জনগণ শুধু ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার মোবাইল সীম ব্যবহার করছে। সে সময় ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ লাখ। বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমরা সাবমেরিন কেবলের ক্যাপাসিটি ২০০ জিবিপিএস পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছি। ইন্টারনেট ক্যাপাসিটি আরো বৃদ্ধি করতে আমরা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ অর্জন করবে। টেলিযোগাযোগ খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশে পণ্য তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, টেলিফোন শিল্প সংস্থা বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল টেলিফোন সেট উত্পাদনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, মোবাইল, ব্যাটারি, মোবাইল ব্যাটারি চার্জার, প্রি-পেইড ইলেকট্রিক মিটার সংযোজন করে স্বল্পমূল্যে বাজারজাত করছে। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম। আউট সোর্সিংখাতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। তথ্য-প্রযুক্তি এখন জনগণের ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম হাতিয়ার।
 
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডাকা ও টেলিযোগাযোগ সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাকা টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস।