নিজ শয়নকক্ষে তাবলীগ নেতার গলাকাটা লাশ

আপডেট : ১৯ মে ২০১৫, ০০:৩৭

গত এক সপ্তাহে সিলেট নগরীতে তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। পর পর খুনের ঘটনায় নগরীতে উদ্বেগ ও আতংক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। ইব্রাহিম আবু খলিল (৫৫) নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ তারই শয়নকক্ষ থেকে গতকাল সোমবার সকালে উদ্ধার হলে নতুন মাত্রায় সর্বত্র আতংক দেখা দেয়।

 
১২ মে অনন্ত বিজয় দাস নামে এক ব্লগারকে শহরের বনকলাপাড়ায় তারই বাসার কয়েক গজ দূরে প্রকাশ্য দিবালোকে খুনিরা কুপিয়ে হত্যা করে। খুনিরা ধরা পড়েনি, চিহ্নিতও হয়নি। এই ঘটনার চারদিন পর ১৬ মে রাতে এক পরিচ্ছন্ন কর্মী শিকন্দর লালকে (৩০) খুন করে মাদকসেবীরা। এদের রক্তের দাগ না শুকাতেই একদিন পরই সিলেট নগরীর সওদাগরটুলায় তাবলীগ জামায়াতের কর্মী খুন হয়েছেন তারই শয়নকক্ষে। হতভাগ্য ইব্রাহিম আবু খলিলের (৫৫) গলাকাটা লাশ গতকাল সোমবার সকালে পুলিশ উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
 
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) রহমতউল্যা দুপুরে ‘ইত্তেফাক’কে জানান, নিহত খলিলের গলায় এবং পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার হাত-পা বাঁধা ছিল। রবিবার রাতের কোন একসময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা। গলাকাটা লাশ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। নিহতের প্রথম স্ত্রী ও তার এক ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। জানা যায়, ইব্রাহিম আবু খলিল তিনটি বিয়ে করেছেন। দুদিন আগে তিনি তাবলীগ শেষে ভারত থেকে দেশে ফেরেন। স্বজনরা জানান, রবিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন ইব্রাহিম। সোমবার সকালে তার ঘরের দরজা খোলা পাওয়া যায়। খাটের নিচে হাত বাঁধা ও গলাকাটা অবস্থায় লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মুখের উপর বালিশ চাপা দেয়া ছিল।
 
সিআইডির ক্রাইমসিন টিম আলামত সংগ্রহ করে। ইব্রাহীম খলিলের হত্যার খবরে তাবলীগ জামাতের শত শত কর্মী ছুটে আসেন। স্থানীয় ধোপাদীঘিরপাড় জামে মসজিদে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে তাত্ক্ষণিক খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। নিহত ইব্রাহিম ধোপাদীঘিরপাড় এলাকার তাবলীগ আমীর ছিলেন। ছেলে সাজিদ জানান, ঘাতকরা তার ঘর থেকে ল্যাপটপ ও কিছু স্বর্ণ নিয়ে গেছে।
 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি রহমতউল্লাহ গত রাতে জানান, নিহতের প্রথম স্ত্রী বিবি ফাতেহা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে স্বামীকে হত্যা করেছেন তিনি।